ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের পরীক্ষা সশরীরে শুরু হবে আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর। প্রথমে স্থগিত পরীক্ষা শুরু হলেও ধারাবাহিকভাবে সেপ্টেম্বরেই ফরম পূরণ হওয়া সকল পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছে সাত কলেজ কর্তৃপক্ষ।
পরীক্ষা শুরু নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা যাচ্ছে নানা জনের না মত। শিক্ষার্থীদের কিছু অংশ বলছে এখন পর্যন্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত না হওয়ায় সশরীরে পরীক্ষায় মারাত্নক স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন পরীক্ষা অনলাইনে হলে এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকবে না। পরতে হবে বাসা খোজার বিড়ম্বনায় ।এছাড়াও তারা বলছেন আবাসিক হল বন্ধ থাকায় নতুন করে বাসা ভাড়া নেওয়া নিয়ে বিড়ম্বনায় পরতে হবে না।
এই মুহুর্তে বাসা খুজতে যেই সময় অপচয় হবে সেই সময়টা তারা পড়াশুনায় কাজে লাগাতে পারবে যদি অনলাইনে পরীক্ষা হয় ।
ইডেন কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থী সিরাজাম মুনিরা বার্তা বাজারকে বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যক্তির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। করোনা মহামারীর শুরু হতেই শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।
বিকল্প হিসেবে চালু করা হয় অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা। পরবর্তীতে বিভিন্ন ভাবে আমাদের আশ্বস্ত করা হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা চিন্তা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় দেশের বিভিন্ন পাবলিক এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউজিসির নির্দেশনা মোতাবেক অনলাইন পরীক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণে পদক্ষেপ নেয়। আমরা সাত কলেজের শিক্ষার্থী এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তারা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি। সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় না এনেই সরাসরি পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন।
এ বিষয়টা পুরোপুরি জেনে শুনে বিষ পানের ন্যায়। সরাসরি পরীক্ষা গ্রহণে শিক্ষার্থীরা যেমন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরবেন ঠিক তেমনিভাবে তারা তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে পরবেন। আর আবাসিক হলসমূহ বন্ধ রেখে পরীক্ষা গ্রহণের ফলে শিক্ষার্থীরা আবাসন সমস্যায় পড়ে অসাধু বাসা ও মেস মালিকদের হাতে হয়রানির শিকার হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ শুধুমাত্র মুখে না বলে আমরা আশা করি এর সুষ্ঠু প্রয়োগ এবং সুবিধা এই করোনাকালীন সময় দেখতে পাবো। তাই আমি- সিরাজুম মুনিরা-সার্বিক দিক বিবেচনায় কর্তৃপক্ষকে অনলাইন এক্সাম কে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুকি ও আবাসন সহ অন্যান্য ভোগান্তি নিরূপণে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিবেদন করছি।
আমরা শিক্ষার্থী বান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা চাই। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী বলেন- অনলাইনে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীরা যেসব সুবিধা পাবে,
১,করোনাভাইরাস সংকটে নিজেকে বাসায় রেখে সুস্থ থাকা সম্ভব। ২,যাতায়াত বিড়ম্বনায় পরতে হবেনা শিক্ষার্থীদের। ৩,মহামারিতে ঢাকায় গিয়ে বাসা খুজে হয়রানি হতে হবেনা। ৪,যেহেতু অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটপূর্ণ করোনার কারনে,হঠাৎ করে অনেক টাকা লাগবে বাসা ভাড়া,খাওয়া,থাকা ইত্যাদি এসব অতিরিক্ত খরচ হবেনা অনলাইনে পরীক্ষা হলে।
৫,যেহেতু ক্লাস অনলাইনে হয়েছে সেহেতু পরীক্ষা অনলাইনে নিলে অফলাইনের মতো ঝামেলায় পরতে হবেনা। ৬,ডিজিটাল দেশ হিসেবে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়াতে বড় ধরনের অভিজ্ঞতার বিষয় রয়েছে।শিখার আছে অনেক কিছু। ৭.মোবাইল ফোন সবার হাতে থাকায় অনলাইনে পরীক্ষায় সবারই আলাদা আগ্রহ আছে। ৮,অনলাইন নির্ভর এখন দুনিয়া,সেই হিসেবে স্বাস্থ্য ঝুকি থেকে রেহাইয়ের অন্যতম মাধ্যম অনলাইনে পরীক্ষা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাত কলেজের সমন্বয়ক ( ফোকাল পয়েন্ট) ও ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বার্তা বাজারকে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা সেশন গুলো দু-তিন বছরের সেশনজটে রয়েছে । তারা পরীক্ষা দিতে চায় যেভাবেই হোক। এজন্য আমরা পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
কোন সেশনের শিক্ষার্থীরা এখন পরীক্ষা দিতে না চাইলে বা অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি করলে তারা তাদের কলেজের অধ্যক্ষকে বলুক। এখানে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের একা কিছু করার নেই। অন্যান্য কলেজের অধ্যক্ষরাই বলছেন তারা অনলাইনে পরীক্ষা নিতে পারবেন না। বাকি কলেজের অধ্যক্ষরা বললেই তারপর আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এ বিষয়ে বলতে পারবো৷ এছাড়া তো আমার বলার সুযোগ নেই।
এছাড়াও তিনি বলেন, আমরা দ্রুত পরীক্ষা গুলো নিয়ে নিচ্ছি সামনে এইচএসসির ক্লাস,পরীক্ষা রয়েছে। এখন কোন কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে নিলে এইচএসসির জন্য জানুয়ারির আগে আর আমাদের পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না। শিক্ষার্থীদের এ বিষয় গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।
বার্তা বাজার/টি