কুমিল্লায় সাড়ে ৭ মাসে ৮ হাজারের অধিক আসামী আটক

‘হয় মাদক ছাড় নয় কুমিল্লা ছাড়, বিট পুলিশিং এর জোয়ারে এসপি ও যাবে আপনার দুয়ারে’ এ শ্লোগান নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ কুমিল্লায় যোগদানকালে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে পুলিশকে মানবিক পুলিশ হওয়ার পাশপাশি পেশাদার ও দক্ষ পুলিশ হওয়ার কথা বলেছেন। সিমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে কুমিল্লায় মাদকের স্বর্গরাজ্য ও বিভিন্ন প্রকারের অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পরিমানও বেশি ঘটে থাকে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ কুমিল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন এর ধারাবাহিকতায় তার নেতৃত্বে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সাড়ে ৭ মাসের মধ্যে কুমিল্লা নগরীর শহরতলীসহ জেলার ১৭ টি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে কুমিল্লার ইতিহাসে বিপুল পরিমান মাদকদ্রবাদি জব্দ করেন। পাশপাশি তার চৌকস দিক নির্দেশনায় হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাইকারী, নৌপথের ডাকাতচক্র, কিশোর অপরাধীদের গ্যাং, ইভটিজার, ওয়ারেন্টভূক্ত পলাতক আসামী এবং নারী ও শিশু নির্যাতনকারীসহ বিভিন্ন আসামীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন।

কুমিল্লায় সাড়ে সাত মাসে ৮ হাজার১১২ জন আসামী গ্রেফতার করেছেন জেলা পুলিশ। খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, মাদক এবং ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতকসহ বিভিন্ন মামলার ৮ হাজার ১১২ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারী থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত গত সাড়ে ৭ মাসে এই আসামীদের গ্রেফতার করে কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানার পুলিশ। একদিনে (২১ আগস্ট) ওয়ারেন্ট, নিয়মিত, মাদক ও অন্যান্য মামলায় ৪১জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত সাড়ে ৭ মাসে ৮ হাজার আসামী গ্রেফতারের এই সংখ্যাটি প্রকাশ করে কুমিল্লা জেলা পুলিশ কার্যালয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত গত সাড়ে ৭ মাসে ওয়ারেন্ট, নিয়মিত, মাদক ও অন্যান্য মামলায় সর্বমোট ৮ হাজার ১১২ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক ২ হাজার ৯৫৩জন, নিয়মিত মামলায় ২ হাজার ৫৮৫জন, মাদক মামলায় ২ হাজার ৪০৩জন, অন্যান্য মামলায় ১৭১ জন।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িতদের ঠাঁই কুমিল্লায় হতে পারে না। আমাদের প্রতিটি ইউনিটকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলাজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আমরা মানুষের শান্তি ও সেবার জন্য কাজ করি। এজন্য সব কাজেই জবাবদিহিতা থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লাবাসীর জন্য আমাদের প্রতিদিনের নিরন্তর প্রচেষ্টা ও অর্জনগুলো প্রতিদিনই তাদের কাছে প্রকাশ করা হচ্ছে নোটিশ বোর্ডেও মাধ্যমে। এছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য যদি অন্যায়ভাবে কাউকে হয়রানি করে বা মাদকসহ অনৈতিক কাজে জড়িত থাকে, তাহলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে শতভাগ মানবিক হতে হবে। পুলিশের কোনো সদস্য অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশ সুপার বলেন, আইনসঙ্গতভাবে পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করা। বিচারের মুখোমুখি করতে হলে অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারপূর্বক আদালতের নিকট উপস্থাপন করতে হয়। বিচার শেষে যে সকল অপরাধীর সাজা হয় তারা পলাতক থাকলে তাদের গ্রেফতারপূর্বক সাজা কার্যকর করা অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্বটুকু নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে বদ্ধপরিকর কুমিল্লা জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা হলে সমাজে অপরাধ অনেকাংশে কমে যায়। তাই প্রতিটি থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য।

কুমিল্লার সাধারণ জনগণ কুমিল্লা জলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ এর এ উদ্যোগের কারণে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অপরাধ বিরোধী এসকল কর্মকান্ডের দরুন জনজীবনে শান্তি ফিরে আসছে। কুমিল্লা বিদেশগামীদের পুলিশ ভেরিফেকেশন করতে এখন অথিরিক্ত টাকা দিতে হয়না যে কোন থানায় গেলে খুব দ্রুত হিডির সেবাসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর