২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলায় আহত হন মামুন। গ্রেনেড হামলায় আহত অনেকেই পেয়েছেন আর্থিক সহযোগীতা। কিন্তু মামুনের কপালে জুটেনি সেই সহযোগীতা। গত শুক্রবার (২০ আগষ্ট) মামুনকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে দেশে জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল বার্তা বাজার।
” গ্রেনেড হামলায় আহত মামুনের জীবন চলে ভিক্ষা করে” এ শিরোনামে। এর পর বিষয়টি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার হোসেন নজড়ে আসে।
রোববার (২২ আগষ্ট) তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে তার কার্যালয়ে ডেকে পঙ্গু মামুনকে খাদ্য সহায়তা দেন। পাশাপাশি তাকে ভিক্ষা না করতে অনুরোধ ও তাকে পুর্নবাসন করার আশ্বাস দেন। এতে পঙ্গু মামুন বার্তা বাজারসহ সকল সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান এবং জেলা প্রশাসক ও ইউএনও’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।।
রোববার (২২ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম তাঁর কার্যালয় পঙ্গুত্ব মামুনকে ডেকে এনে সেই ২১শে গ্রেনেড হামলার বর্ণনা শুনেন। তারপর মামুনের হাতে খাদ্যসামগ্রীর ব্যাগ তুলে দিয়েছেন ইউএনও।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম বলেন, পঙ্গু মামুনকে নিয়ে বার্তা বাজারসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে এ সংবাদটি প্রকাশ হলে তা নজরে আসে জেলা প্রশাসকের। পরে তার নির্দেশে মামুনকে আমার কার্যালয়ে ডাকা হয়।
তার মুখে ২১শের সেই বর্বরোচিত বোমা হামলার কথা শুনা হয়। সেই দিনের দুর্বিষহ স্মৃতি বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মামুন। পরে জেলা প্রশাসকও মামুনের সাক্ষাতকার নেন। ভবিষ্যতে যেন ভিক্ষা না করে, সে লক্ষ্যে মামুনকে পূর্ণবাসন এবং পরিবার নিয়ে চলার মত ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে সহসাই।
উল্লেখ্য–পঙ্গু-মামুনুর সদর উপজেলা লাহারকান্দি ইউনিয়নের আঠিয়াতলী গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আয়োজিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রা পুলিশ-সদস্যদের নিয়ে সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন।তিনি পেশায় একজন গাড়ি চালক। সরকারি চাকুরী না হলেও বেসরকারিভাবে দায়িত্বে ছিলেন গ্রেনেড হামলার দিন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে। দীর্ঘ বছর ধরে মামুন পঙ্গুত্ব জীবন-যাপন করে যাচ্ছেন। স্ত্রী ও তিন মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে মানুষের ধারে-ধারে যেত হচ্ছে।
ওসমান গণি/বার্তা বাজার/টি