মাল্টা চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছে ডিমলার নুর আলমের

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই বালাপাড়া ইউনিয়েন কাস্টম পাড়া গ্রামের মোঃ মশিয়ার রহমানের ছেলে নুর আলম মাল্টা চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দেড় বছর আগে লাগানো তার গাছগুলোতে এখন থোকায় থোকায় ঝুঁলছে মাল্টা ফল। বাজারে চাহিদা ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লাভজনক হওয়ায় এ ফল চাষে তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেন। তিনি মাল্টার পাশাপাশি নিজের জমিতে বিভিন্ন ফসল ও সুপারি চারা তৈরি এবং সবজি চাষাবাদ করেন।

এই এলাকার মাটি ফল ও সবজি উৎপাদনের উপযোগী হওয়ায় গুরুত্ব দিয়ে কৃষিকাজ করার উদ্যোগনেন। বাড়ির পাশে পতিত জমি থাকায় মাল্টা চাষের পরিকল্পনা চেপে বসে কৃষক নুর আলমের মাথায়।

ওই বছরের মে মাসে মাল্টা চাষ শুরু করতে পরামর্শ নিতে যান ডিমলা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসে। মাল্টা চাষে চান ভালো ফলন, চান সমৃদ্ধশালী কৃষি উন্নয়ন পরামর্শ। তার আগ্রহ দেখে সহযোগিতার হাত বাড়ান কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা।

চাষী নুর আলমকে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে মাল্টা ব্লক প্রদর্শনী নামে ২’শ বারি-১ জাতের মাল্টা গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। চারা এনে তার ১ একর জমিতে রোপণ করেন। মাল্টা বাগানের দেখভাল করার জন্য একজন কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি এ জমিতে সুপারির চারা তৈরী করে ১০ হাজারেও অধিক সুপারির চারা বিক্রি করে অনেক টাকা মুনাফা করেছেন।

তবে মাল্টা চাষে খুঁটিসহ বিভিন্ন উপকরণের সমস্ত খরচ ডিমলা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস বহন করায় তার তেমন খরচ হয়নি। মাল্টার চারা লাগানোর পর নিবিড় পরিচর্যার কারণে ১৪ মাসের মাথায় প্রতিটি গাছে ফলন এসেছে অনেকটা চোখে পড়ার মতো।

আর এই মাল্টা চাষের মধ্য দিয়ে নিজের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। মাল্টা চাষী নুর আলম বলেন, মাল্টার চাষবাদ আমাদের এলাকায় একেবারেই নতুন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনেকেই এ ফলের চাষ করে সাফল্য পেয়েছে।

দেশে উৎপাদিত মাল্টা বিদেশ থেকে আমদানি করা যে কোনো মাল্টার চেয়ে রসালো, সুস্বাদু ও মিষ্টি। মাল্টা চাষে ডিমলায় তার রোপণ করা ২০০টি গাছের মধ্যে মাত্র ২৪টি গাছে পরীক্ষামূলকভাবে ফল নেওয়া হয়েছে। একটি মাল্টা গাছে ৫০ থেকে ৮০ টি ফল ধরেছে। যা ওজনে ১০ থেকে ১৫ কেজির মতো হতে পারে। বাজারে মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। তিনি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারলেও এবছর ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সেকেন্দার আলী বলেন, এই উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য খুবই পজেটিভ। কৃষি বিভাগের নিজস্ব উদ্যোগে এবং উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৮ একর জামিতে মাল্টার বাগান স্থাপন করা হয়েছে।

তারিকুল ইসলাম সোহাগ/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর