জোর পূর্বক স্বীকারোক্তি গ্রহণের ঘটনা তদন্ত কর্মকর্তার ভুল নয়, এটি মারাত্মক অপরাধ বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার (২২ আগস্ট) এ মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত ৬ সেপ্টেম্বর। একই সাথে ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক নয়ন কুমারকে সশরীরে হাইকোর্টে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ১১ আগস্ট একই বেঞ্চ এক সংশ্লিষ্ট মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার এবং বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়ার পিবিআই-এর উপপরিদর্শক মনসুর আলীকে মামলার নথি (সিডি) নিয়ে হাজির থাকতে বলা হয়। এ আদেশে তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর মধ্যে লিখিত আবেদন দিয়ে তদন্তে ভুলের জন্য আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান নয়ন কুমার। তার আবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। এ সময় আদালত উলি্লখিত মন্তব্য করেন।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানার কাটাখালী গ্রামের মহিদুল ইসলামের ৮ বছরের ছেলেকে হত্যা এবং ওই ঘটনায় তারই ১২ বছরের আরেক ছেলেকে গ্রেফতার করে স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের ৫ আইনজীবীর করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। এ সময় আদালত কক্ষে প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার উপস্থিত ছিলেন।
এরও আগে ২৯ জুন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে তলব করে আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ৩ আগস্ট তাদের হাজির হওয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে ওইদিন আদালতে স্বাভাবিক বিচার কাজ বন্ধ ছিল। এ কারণে ওইদিন শুনানি হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী আদেশ ও শুনানির জন্য ২২ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।
১১ জুন ‘বিয়ারিং দ্য আনবিয়ারেবল’ শিরোনামে একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে মামলায় শিশু আদালতের কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টের ৫ আইনজীবী হাইকোর্টে আবেদন করেন। আবেদনে পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে উচ্চ আদালতে ডাকা হলো।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সাল থেকে ছোট ভাইকে হত্যার দায় নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে ১২ বছর বয়সী বড় ভাইকে। ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট বগুড়ার কাটাখালি গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় মহিদুল ইসলামের ছেলে সোহাগের মরদেহ। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে পুলিশ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় বড় ভাই সৌরভকে। জোর করে হত্যার স্বীকারোক্তিও নেওয়া হয়। এ মামলায় এখন বাড়ি ছাড়া পুরো পরিবার। এদিকে সন্তান হত্যা এবং আরেক সন্তানকে মিথ্যা মামলার অভিযোগ থেকে রক্ষা করতে কোনো উপায় না পেয়ে দিশেহারা পরিবারটি।
বার্তা বাজার/এসবি