মেয়ের অনুপ্রেরনায় সফল উদ্যোক্তা হলেন মিতু

আমরা নারী সব পারি – এই উক্তিটির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বাংলাদেশের অনেক নারী আজ স্বাবলম্বী। নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভুমিকা রাখছে এসব নারীরা। সাফল্যমন্ডিত হচ্ছে এসব সংগ্রামী, উদ্যামী নারী উদ্যোক্তারা। তেমনি এক নারী উদ্যোক্তার গল্প বলছি আজ।

কামরুন নাহার মিতু, জন্ম চাঁদপুরে তবে বর্তমানে ঢাকার খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা। স্বামী জহিরুল হক ও একমাত্র কন্যা সন্তান লামিছা হক সঞ্চিতাকে নিয়েই মিতুর সংসার। স্বামী জহিরুল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন এবং মেয়ে এবার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মিতু ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে না হলেও তিনি সফল হয়েছেন ব্যবসা করে। ২০১৯ সালের জুন মাসে ফেসবুক ভিত্তিক ই-কমার্স গ্রুপ উমেন্স এন্ড ই-কমার্স ফোরামের (উই) মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসায় নাম লেখান মিতু। মাত্র বিশ হাজার টাকা পুজি নিয়ে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করে মাত্র ২ বছরে তিন লাখ টাকার মালিক হন তিনি।

মিতু বলেন, ‘আমি মূলত নিজে সাবলম্বী হওয়ার জন্যই উদ্যোক্তা জীবনে পা রেখেছি। আমার উদ্যোক্তা জীবনের শুরু হয় ২০১৯ সালের জুন মাসে। তখন আমি ফেসবুকে প্রায় বেকার সময় অতিবাহিত করেছি। হঠাৎ একদিন চোখে পরলো ফেসবুক গ্রুপ উই। উই গ্রুপকে ফলো করলাম কয়েকদিন। সেখানে দেখলাম নারী উদ্যোক্তাদের জয়জয়কার। সেখান থেকেই মুলত উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন জাগে। তারপর আমি আমার জমানো ২০,০০০ টাকা দিয়ে আমার ব্যবসাটা শুরু করি। আমি প্রথমে শাড়ি কাপড় দিয়ে আমার ব্যবসার যাত্রা করি। এরপর আরও বিভিন্ন আইটেম নিয়ে কাজ শুরু করি। তবে এখন আমার সিগনেচার আইটেম ভেজিটেবল ডাই শাড়ি। ভেজিটেবল ডাই শাড়ি হলো প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করে যে শাড়ি গুলো তৈরি করা হয়। এধরনের রঙ সাধারনত ভেষজ গাছের নির্যাস থেকে তৈরি করা হয়। তাই এ শাড়ি গুলোর চাহিদা অনেক বেশি। পড়তেও সাচ্ছন্দ্যময় ও টেকসই। প্রথম দিকে তেমন সাড়া না পেলেও আস্তে আস্তে সাড়া পাওয়া শুরু করি এবং মাত্র ২ বছরে প্রায় তিন লাখ টাকার মতো আয় করি’।

মিতু আরও বলেন, ‘আমার অনলাইন ব্যবসার শুরুটা প্রথমে তেমন একটা সহজ ছিল না। পরিবার থেকে সাপোর্ট পেলেও আশেপাশের কিছু মানুষের কটু কথা তো থাকেই। প্রথম প্রথম সেই সব কথায় আমি অনেক বেশি হতাশ হয়ে পড়তাম, হাল ছেড়ে দিতাম। কিন্তু ডিমোটিভেট করার জন্যও যেমন মানুষ থাকে তেমনি মোটিভেট করার জন্যও মানুষের অভাব হয় না। আমার অনেক কাছের মানুষের উৎসাহে আমি আবার উঠে দাঁড়ানোর সাহস পাই। বিশেষ করে আমার মেয়ে আমাকে সবসময়ই অনেক বেশি সাপোর্ট করে। তার অনুপ্রেরনাই আজ আমি সফল’।

মিতুর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তার এই ছোট্টো উদ্যোগকে আরও বড় করা এবং পরিবারে তার আয় দিয়ে সাহায্য করা।

বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর