প্রতিবন্ধীদের স্কুল এখন গোয়াল ঘর
করোনাভাইরাসে দেশের অর্থনৈতিক খাতে যেমন সমস্যা হয়েছে, ঠিক তেমনই শিক্ষাখাতে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি। যার বেশিরভাগ প্রভাব পড়েছে মফস্বলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। করোনা মহামারীর কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা আর সঠিক তদারকির অভাবে নষ্ট হচ্ছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
তেমনই চিত্র দেখা গেলো কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ার ছড়ায় অবস্থিত ‘দাশিয়ারছড়া বুদ্ধি ও অটিস্টিক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়’নামের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে স্কুলটিতে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলটির মাঠে ও বারান্দায় বাঁধা রয়েছে গরু। শ্রেণিকক্ষের ভিতরে গরুর খাবার, খড় রাখা হয়েছে। কক্ষগুলোর বারান্দায় গরুর গোবর পড়ে আছে। প্রতিবন্ধীদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিণত হয়েছে গো-শালায়। প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির উদাসীনতায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের পরিবেশ।
জানা যায়, ২০১৫ সালে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময়ের পর কয়েক মাসের মাথায় গড়ে উঠে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি । প্রতিষ্ঠানটির শুরুতে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন রওশন আরা মাহমুদা নামের একজন শিক্ষিকা। বর্তমানে তিনি অন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের পদে থাকা শিক্ষক মাহমুদা বলেন, “গোয়ালঘর কিংবা স্কুলের কোনো বিষয় সম্পর্কে আমি ঠিক বলতে পারবো না, আমি ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নেই।”
ফুলবাড়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ এরশাদুল হক বলেন, “প্রতিবন্ধী স্কুলটি আমাদের আওতায় নয়, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের আওতায়। এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না।”
বিষয়টি জানার জন্য ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোঃ রাহেনুল ইসলাম কে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির বক্তব্য নেয়ার জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সুজন মোহন্ত/বার্তা বাজার/এসজে