পটুয়াখালীর বাউফলে খাদ্য বান্ধব ওএমএস (বিশেষ ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির আওতায় স্বল্প আয়ের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের মধ্যে চাল গম বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
দায়িত্বরত ডিলার ও অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এ অনিয়মটাকে নিয়মে পরিনত করেছেন বলে স্বল্প আয়ের মানুষরা অভিযোগ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি “এ” গ্রেডের পৌরসভা ৪জন করে দোকান ডিলার কেন্দ্র বরাদ্ধ পাবে। ছুটির দিন ব্যতীত সকাল ৯টা থেকে বাউফল পৌরসভার বকুলতলা স্কুল প্রাঙ্গণে নাসির হোসেন, কাগুজির পুল এলাকায় আনোয়ার মুন্সি, গোলাবাড়ি লিটন মিয়া ও কালাইয়া এলাকায় চুন্নু হোসেন নামে একজন ডিলার স্বল্প আয়ের মানুষদের মধ্যে ওএমএস এর চাল ও আটা বিতরণ করেন।
খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা একজন ডিলারকে দৈনিক ১টন আটা ও ১.৫০ টন চাল বরাদ্ধ দিয়ে থাকেন। একজন মানুষ ৩০ টাকা ধরে ৫ কেজি চাল ও ১৮ টাকা ধরে ৫ কেজি আটা সংগ্রহ করতে পারবেন। কিন্তু প্রতি ৫ কেজিতে ১ থেকে ২শত গ্রাম চাল ও আটা কম দেয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে শনিবার (২১ আগষ্ট) বেলা ১২টার দিকে স্বল্প আয়ের মানুষদের সাথে বকুলতলা প্রাঙ্গনে সংশ্লিষ্ট ডিলারের সাথে বাকবিতান্ডা হয়।
একসময় ডিলার ও খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তারা চাল ও আটা দেয়া বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় আবার দেয়া শুরু হয়। নরসুন্দর আরিফ কারিকর জানান, “অন্য জায়গায় মাপ দেওয়ার পর আমার চাউলও ২শত গ্রাম ওজনে কম অইছে”।
নাজিরপুরের ইউসুফ মুন্সি জানান, ‘চাউল যতবার নিছি প্রত্যেকবারই কোম দিছে’। স্বামী হারা রাহেলা বেগম বলেন, “বাবা চাউল কোম দিছে একটু হ্যাতে কি ওইছে, দামতো কম নিছে। ”
সংশ্লিষ্ট ডিলার নাসির হোসেন ও অফিসের নির্ধারিত কর্মকতা জামাল মোল্লা জানান, ১শত ২শত গ্রাম চাল অফিসই কম দিতে বলেছে, এটা নিয়মে আছে।
বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো: আবদুস সালাম জানান, খাদ্য গুদাম থেকে গম চাল বস্তা ছিড়ে ও পরিবহনে আনা নেওয়ার সময় কিছুটা ঘাটতি হয়। চাল গম নিতে আশা লোকজন পরিমাপে একটু কম পেলেও কোন ধরনের আপত্তি জানায় না।
বিষয়টি তাদের কাছে বলায় তারা মেনে নিয়েছে। তবে পৌর শহরের নামে বরাদ্ধকৃত ডিলার ইউনিয়ন পর্যায়ে কেন চাল গম বিতরন করছেন জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বার্তা বাজার/টি