হুইল চেয়ারের অভাবে, বাবা মায়ের কোলে চড়ে ৯ বছর ধরে স্কুলে যাচ্ছেন কামাল
নীলফামারীর ডোমারে উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বোড়াগাড়ী সবুজপাড়া গ্রামের মো: আফছার আলী ও করিমুন বেগম দম্পত্তির বড় ছেলে বাবা মায়ের কোলে চড়ে ৯ বছর ধরে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে শারীরিক প্রতিবন্ধী কামাল (১৭)।
সে বাড়ীর এক কিলোমিটার দুরে অবস্থিত পশ্চিম বোড়াগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। কামালের বাবা জানান, ছেলেটা জন্মের পর ভালো ছিল। দুই বছর পর একদিন হঠাৎ কামালের শরীরে জ্বর আসে। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করি, কিন্তু জ্বর কমছে না।
পরে ডাক্তার রংপুরে চিকিৎসার জন্যে পাঠালে রংপুর ব্র্যাক হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে জ্বর কমলেও কামালের হাত পা বাকাঁ হয়ে যায়। ব্র্যাকে ৩ বছর ধরে চিকিৎসা করা হলেও হাত-পায়ের হাঁড়গুলো সোজা হয়নি। সেখানকার ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্যে দিল্লিতে নিয়ে চিকিৎসা করাতে বলেছে। কিন্তু আমার পক্ষে দিল্লিতে চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি।
ছেলেটা অর্থের অভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে গেল। কামাল স্কুলে পড়ে। আমরা দু’জন মানুষ যে যেদিন সময় পাই, কোলে নিয়ে কামালের স্কুলে যাওয়া আসা করি। এখন ছেলে বড় হয়েছে, আমাদের কষ্টগুলো বুঝতে শিখেছে। তাই সে নিজেই হুইল চেয়ারে বসে স্কুল যেতে চায়। হুইল চেয়ার কেনার টাকা না থাকায় আমি একটি হুইল চেয়ারের জন্যে ছেলেকে কোলে নিয়ে সরকারি দপ্তরসহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে যাচ্ছি।
যদি কেউ আমাকে সহযোগীতা করে তাহলে আমার ছেলে চেয়ারে বসে একাই স্কুলে যেতে পারবে বলে ইচ্ছা পোষণ করেন। কামাল বলেন, দিনমজুর পিতা মাতার সময় নষ্ট করে তাদের কোলে চড়ে বিদ্যালয়ে যেতে চাই না। আমার বিশ্বাস হাত দিয়ে চালানো একটি হুইল চেয়ার হলেই, নিজেই তাহা চালিয়ে বিদ্যালয়সহ চলাফেরা করতে পারবো।
কিন্তু কে দেবে আমাকে একটা চলাচলের জন্য হুইল চেয়ার। দিন মজুর বাবা মা ইতিপূর্বেই আমার চিকিৎসার জন্য সহায়সম্ভল শেষ করেছে। এখন প্রত্যহ দিনমুজুরী করে কোনরকম সংসার চালায়।
এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ফিরোজুল ইসলাম মধু বলেন বর্তমান বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে পরবর্তী বরাদ্দ আসলে তাকে একটি হুইল চেয়ার দেয়ার কথা জানান।
তারিকুল ইসলাম সোহাগ/বার্তা বাজার/টি