সেই বেগমগঞ্জে আবারও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ

গ্রেফতারকৃত দুই ধর্ষক। ছবি- বার্তা বাজার

গতবছর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পুরো দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল তীব্র সমালোচনা ও আন্দোলন।

এবার সেই বেগমগঞ্জেই ঘটেছে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আগের ঘটনার মত এবারও করা হয়েছে ভিডিও ধারণ। এবার এক স্কুলছাত্রীকে (১৭) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২০ আগস্ট) বিকাল ৩টা থেকে ৬টার উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের বাবুননগর গ্রামের খোনার বাড়ির আব্দুল আউয়ালের ছেলে আব্দুর রহমান (২৮) ও একই গ্রামের শরীফ মিয়াজী বাড়ির দুলালের ছেলে ইব্রাহিম(২২)।

ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী জানান, সে স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। গতকাল শুক্রবার দুপুর ৩টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে পাশের বাড়ির বান্ধবীর কাছ থেকে অনলাইনে পরীক্ষার নোট নেওয়ার জন্য যাওয়ার পথে আব্দুর রহমান (২৮) তাকে রাস্তা থেকে মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে নির্মাণাধীন একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে গায়ের ওড়না দিয়ে মুখ ও হাত বেঁধে ধর্ষণ করে।

আসরের আজানের পর ধর্ষক আব্দুর রহমান একই গ্রামের তার বন্ধু ইব্রাহিমকে (২২) ফোন করে এবং নির্যাতিত কিশোরীকে আব্দুর রহমানের বাড়িতে নিয়ে যায়। তখন আব্দুর রহমান তাকে পুণরায় ওই বাড়িতে ধর্ষণ করেন এবং ইব্রাহিম ধর্ষণের ভিডিও চিত্র মোবাইলে ধারণ করেন। পরে ইব্রাহিম ধর্ষণ করেন এবং আব্দুর রহমান ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন।

এভাবে দুজনে মিলে দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পালাক্রমে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন।

একপর্যায়ে মাগরিবের আজানের পর আব্দুর রহমান নির্যাতিতা স্কুলছাত্রীর কানে থাকা স্বর্ণের দুল ও নাকফুল জোড়পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়।

এ বিষয়ে নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো.শহীদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত আব্দুর রহমান ও ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করে।

বার্তা বাজার/এসজে

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *