অভাব অনটনে জীবন কাটছে গ্রেনেড হামলায় নিহত লিটন মুন্সির মা-বাবার

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় গ্রেনেড হামলায় নিহত মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের চানপট্টি গ্রামের যুবলীগ নেতা লিটন মুন্সীর মা-বাবা ভালো নেই। অসুস্থ হয়ে পড়ায় এখন কাজকর্ম করতে পারেন না তার বাবা আইয়ুব আলী মুন্সী। মা আছিয়া বেগমও অপারেশনের রোগী। প্রতি মাসে তাদের ঔষধ বাবদ খরচ হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। সরকারি ৩ হাজার টাকা মাসিক ভাতায় না চলে সংসার-না চলে চিকিৎসার খরচ। একেতো পুত্রশোকে কাতর বৃদ্ধ মা-বাবা। তারপরে রয়েছে অভাব অনটন। দীর্ঘ ১৭ বছর পার হয়ে গেলেও অঝোরে কেদেই চলেছেন তারা। মামলার রায় আজও কার্যকর না হওয়ায় লিটনের পরিবারের মতো হতাহত অন্যান্য পরিবারে মাঝেও ক্ষোভ রয়েছে। তারা এখনো দিন গুণছে মামলার রায় কার্যকরের আসায়।

জানা গেছে, যেখানেই আওয়ামী লীগের মিটিং মিছিল, সেখানেই ছিল লিটন মুন্সীর অবস্থান। সে ছিল যুবলীগের নিবেদিত কর্মী। এই টানেই তিনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউ-এ অনুষ্ঠিত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকা গিয়েছিল। সেখানেই বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নির্মমভাবে নিহত হন তিনি। তার পরিবারে শোকের ছায়া এখনও কাটেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় লিটনের একমাত্র মেয়ে নুসরাত জাহান মিথিলার ভবিষ্যতের পথ সুগম হলেও ভালো নেই তার মা-বাবা। এদিকে লিটনের স্ত্রী বিয়ে করে নতুন সংসারে যোগ দেওয়ায় সেও তাদের কোন খোঁজ খবর নেন না। মেয়েও তার নানা বাড়ি থেকে পড়াশোনা করায় লিটনের বৃদ্ধ মা-বাবার সাথে কোন যোগাযোগ হয় না।

মা আছিয়া বেগম বলেন, আমাদের একমাত্র ছেলে লিটন যুবলীগের সভাপতি ছিল। গ্রেনেড হামলায় মারা যাওয়ার পর সেই সুবাদেও কেউ আমাদের কোন খেঁাজ খবর নেয় না। তিন বছর আগে আমার পেটের পাথর অপারেশন করাইছি। আমার স্বামীও ৯ মাস যাবত অসুস্থ। প্রতিমাসে আমার ঔষধ বাবদ ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। চিকিৎসা খরচ চালাতে মাঝে মধ্যে মানুষের কাছেও হাত পাততে হয়।

লিটনের বাবা আইয়ুব আলী মুন্সী বলেন, ‘আমার ছেলের তো কোন দোষ ছিল না। আমার একমাত্র ছেলেকে কবরে শুইয়ে রেখে কিভাবে বেঁচে আছি বলতে পারেন? তিনি এই গ্রেনেড হামলা মামলার রায় কার্যকর করার দাবী জানান।

লিটনের কবরের পাশে মা-বাবা। -বার্তা বাজার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭ বছর পূর্বে নিহত লিটন মুন্সীর স্ত্রী মাফিয়া বেগমকে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। মেয়ে মিথিলাকে ২০১৮ সালে আরো ৫লক্ষ টাকা ও ঢাকার মিরপুরে একটি ফ্লাট বাড়ি দিয়েছেন। এছাড়াও মিথিলার ভরণ-পোষণ ও লেখা পড়ার খরচ বাবদ প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেন। মিথিলা এবার মাদারীপুর সরকারী ডনোভান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরিক্ষার্থী।

গ্রেনেড হামলায় অন্যদের মধ্যে নিহত সুফিয়া বেগমের বাড়ি উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের মহিষমারি গ্রামে। ওই দিন মহিলা নেত্রীদের সাথে প্রথম সারিতেই ছিলেন সুফিয়া বেগম। চঞ্চলা ও উদ্যোমী সুফিয়া স্বপরিবারে ঢাকায় থাকতেন। তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জারাই আহত-নিহত হয়েছে, আমরা তাদের পরিবারের সাথে কথা বলে ব্যাবস্থা নিব। অবশ্যই তাদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা দেব।

বার্তা বাজার/শাহরিয়া

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর