টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর মোর্শেদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সাবেক যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আতিকুর রহমান মোর্শেদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার (২০ আগস্ট) দুপুরে মোর্শেদকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।
শুনানি শেষে বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা হাসনাত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ দিকে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার মোর্শেদের আইনজীবী জামিনে আবেদন করলে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ বলেন, চাঁদাবাজি মামলায় মোহাম্মদ আতিকুর রহমান মোর্শেদকে গ্রেফতার করা হলেও পুলিশ মূলত অস্ত্র মামলায় রিমান্ড আবেদন করেন। এ দিকে মোর্শেদের আইনজীবী চাঁদাবাজি মামলায় জামিন আবেদন করেন। বিচারক শুনানি শেষে অস্ত্র মামলায় রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) শামীম হোসেন বলেন, সন্ত্রাসী মোর্শেদ দলবল নিয়ে চলাফেরা করতেন। তার এবং তার সহযোগিদের কাছে আরো অস্ত্র থাকতে পারে। এ কারেণে ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। বিচারক শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শনিবার থেকে মোর্শেদকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
উল্লেখ্য, চাঁদাবাজি মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে টাঙ্গাইল পৌরসভার সামনে থেকে মোর্শেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে দুটি পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন এবং ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় পুলিশ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অস্ত্র মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃত মোর্শেদ ১৭নং ওয়ার্ডের বিশ্বাস বেতকা এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলাসহ ১০/১২ মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ সূত্রে আরো জানা যায়, আতিকুর রহমান মোর্শেদ টাঙ্গাইলের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে অন্যতম। সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আসছিল। পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে ছিলেন। জেলহাজত থেকে বেরিয়ে সে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করেছে। গত পৌরসভার নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েও তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেমে থাকেনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল পৌর শহরের সাবালিয়া এলাকার আশিকুর রহমান আশিক নামের এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় পাঁচ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলা করেন। ওই মামলায় আতিকুর রহমান মোর্শেদ ছাড়াও আরো পাঁচজনকে আসামী করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাত আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামী করা হয়। মামলার পরেই পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চালায়।
হাসান সিকদার/বার্তা বাজার/টি