চাঁদাবাজির অপরাধে কথিত সাংবাদিক কারাগারে!

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চাঁদবাজি করার অপরাধে আরিফুজ্জামান চাকলাদার আপেল (৪১) নামে কথিত এক সাংবাদিককে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (২০ আগস্ট) সাড়ে ১২টায় তাকে ফরিদপুর ১নং আমলী আদালতে সোপর্দ করা হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক হোসেন এ আদেশ দেন।

এরআগে উপজেলার বুড়াইচ গ্রামের মুনজুর সরদারের ছেলে মো. বিল্লাল সরদার আরিফুজ্জামান চাকলাদার আপেল ও মো. লায়েকুজ্জামান নামে দুই জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো দুইজনকে আসামী করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১।

পরে বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা সদর বাজারের চৌরাস্তা নামক এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি আরিফুজ্জামান চাকলাদার ওরফে আপেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আপেল পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার দেউলী গ্রামের আঃ কাদের চাকলাদারের ছেলে বলে জানা যায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় আরিফুজ্জামান চাকলাদার ও মো. লায়েকুজ্জামানসহ অজ্ঞাত আরো দুই জন মো. বিল্লাল সরদারের ফুফা আরব আলীর বাড়িতে যান। এসময় মোটরসাইকেলের শব্দ শুনে বিল্লাল বাইরে আসলে আরিফুজ্জামান চাকলাদার ও মো. লায়েকুজ্জামান নিজেদের সাংবাদিক বলে পরিচয় দিয়ে জানান তারা আলফাডাঙ্গা থেকে এসেছেন।

তারা বলেন, আরব আলী জুয়া খেলা অবস্থায় পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ বিষয়ে তারা কোনো প্রতিবেদন করেননি। তাদেরকে কিছু টাকা পয়সা দিলে তারা সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকবেন।

এসময় তারা ২০ হাজার টাকা চান বলে মামলার এজাহারে জানিয়েছেন মামলার বাদী বিল্লাল সরদার। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিল্লালকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দেন আরিফুজ্জামান চাকলাদার ও মো. লায়েকুজ্জামান। পরে এ বিষয়ে কথা কাটাকাটি হলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। তখন আরিফুজ্জামান চাকলাদার ও মো. লায়েকুজ্জামান সহ তাদের সঙ্গে আসা বাকী দুইজন দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আরিফুজ্জামান চাকলাদার ও মো. লায়েকুজ্জামান নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ব্যবসায়ী, শিক্ষক, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদাবাজি করাই ছিল তাদের কাজ। এ থেকে পরিত্রাণ মেলেনি খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষেরও।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেন জানান, ‘আলফাডাঙ্গায় বেশ কিছু কথিত সাংবাদিক মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাচ্ছি। যার মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ছেলেটি সম্পর্কেও অনেক অভিযোগ শুনেছি।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম জাহিদুল হাসান বলেন, ‘আলফাডাঙ্গায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে জিম্মি করে আসছে বেশ কিছু হলুদ ও কথিত সাংবাদিক। আজকের আটককৃত আরিফুজ্জামান চাকলাদার আপেলের নামেও একাধিকবার মানুষকে জিম্মি করে চাঁদা দাবির অভিযোগ পেয়েছি। সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা আর এ পেশার পরিচয় দিয়ে মানুষকে জিম্মি করা বড় দুঃখজনক।’

আলফাডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, সে আসলে একজন কথিত সাংবাদিক। কোন প্রতিষ্ঠিত পত্রিকার সাংবাদিক নয়। অনুমোদনহীন অনলাইন আর ফেসবুকে লেখালেখি করে। এক মহিলার কাছে চাঁদা দাবি করে। ওই মহিলার ভাতিজা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে তার সত্যতা প্রমাণিত হয়। পরে তার নামে চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে এবং তাকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার আরেক সহযোগী লায়েকুজ্জামানকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মিয়া রাকিবুল/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর