সাড়ে চারমাস পর সচল পর্যটন, সৈকতে পর্যটকের ভিড়

দেশ জুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার শেষে প্রায় সাড়ে চার মাস পর বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) থেকে শর্ত সাপেক্ষে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে কক্সবাজার জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্র। গতকালই পর্যটন নগরীর সকল হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ সাফাই শেষে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতি শেষ করেছে।

তবে বৈরী আবহাওয়ায় সেন্টমার্টিন যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটক ভ্রমনের কোন প্রভাব নেই সেন্টমার্টিন দ্বীপে।

বুধবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যার পর থেকে বিধি-নিষেধ শিথিল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা কক্সবাজারে আগমন শুরু করেছে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় ছোট বড় ও তারকা মানের হোটেল-মোটেল গুলো ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে।

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস, কটেজ ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার ‘বার্তা বাজার’কে বলেন, দীর্ঘ সময় হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় ব্যবয়ীদের দৈনিক গড়ে ১০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। অনেক পর্যটনকর্মী চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর দিন কাটিয়েছেন। এটা পর্যটন মৌসুম না হলেও অন্তত ক্ষতি পুষিয়ে নতুন করে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে।

দুপুর থেকে কক্সবাজারের হিমছড়ি, ইনানী, মেরিন ড্রাইভ, সাবরাং এক্সক্লুসিভ জোন, ন্যাচার পার্ক, বার্মিজ মার্কেট, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ অন্য স্পটগুলোতে পর্যটক ও স্থানীয়দের সমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। সৈকতে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটের নেতৃত্বে কয়েকটি টিম ভাম্যমান আদালত পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সচেতনার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং ও টহল অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ড. মো. মামুনুর রশীদ গনমাধ্যম কর্মীদের জানান, দেশে এখনো করোনা সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। করোনা থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই। হোটেল-মোটেলগুলোকে অবশ্যই সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক কক্ষ বা আসন ফাঁকা রেখে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, বিনোদনকেন্দ্র চালু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর কোন রকম ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মহিউদ্দীন আহমেদ ‘বার্তা বাজার’কে বলেন- কক্সবাজারে বিকেল পর্যন্ত আনুমানিক ১৫ হাজার পর্যটক অবস্থান করছে। হোটেল-মোটেল গুলো স্বাস্থ্যবিধি মানলেও কিন্তু এই ক্ষেত্রে পর্যটকদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ ভ্রাম্যমান আদালতের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে। যারা স্বাস্থ্য বিধি মানছেনা তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গেলো বছর করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে ২৭ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণার আওতায় পর্যটন স্পট গুলো বন্ধ হয়ে গেছিলো। এরপর সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রনে এলে গত বছরের ১৭ আগস্ট চালু হলেও চলতি বছরের ১ এপ্রিল আবার বন্ধ হয়ে যায় পর্যটন কেন্দ্র। দীর্ঘ সাড়ে চার মাস পর পর্যটন কেন্দ্র গুলো পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলো।

খাঁন মাহমুদ আইউব/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর