নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে আবাদী জমি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। বালু উত্তোলনের ফলে নদী-তীরবর্তী আবাদি জমি ও রাস্তা ভাঙনের মুখে পড়ছে।
বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় লোকজন তাদের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ দিতেও সাহস পাচ্ছেন না। তবে-সংশ্লিষ্ট সবাইকে ম্যানেজ করেই মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু তুলছেন বলে বালু দস্যুরা জানান।
জানা গেছে, রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশি ইউনিয়নের মেঘনা নদীর আলতাফ মাস্টার মাছ ঘাট এলাকায় আবু তাহের, বিল্লাল কবিরাজ ও সোহেল সর্দার সহ কয়েকজন বালু দস্যু শ্রমিক দিয়ে বালু ও মাটি কেটে অবৈধ ব্যবসা করছেন। আর বালু বা মাটি বিক্রির জন্য তারা সরকারের কাছ থেকে কোনো অনুমতিও নেননি। বালু তোলার ফলে মেঘনার পাড় এলাকার আবাদি জমি হুমকিতে পড়ছে। প্রতিদিন ট্রাকে করে অবৈধভাবে বালু বহনের কারণে রাস্তার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
কৃষক সোহেল মাঝি বলেন, ‘কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না বালু উত্তোলন। এ বালু দিয়ে রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে পুকুর ও জলাশয় ভরাট কাজসহ ব্যবসা করা হচ্ছে। সেখানে ভবনও হচ্ছে। মেঘনা নদীতে গভীর করে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের ফলে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে তার খেসারত দিতে হয় নদী ধারের জমির মালিকদের। ক্ষতি হয় ফসলি জমির। অনেক গাছপালা যায় নদীগর্ভে।’
উত্তর-চরবংশী এলাকাবাসী দাবী করছেন, অবিলম্বে মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আর প্রশাসনের কেউ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থেকে সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে কি না, সেটা তদন্ত করার দাবি জানান।
বালু ব্যবসায়ী আবু তাহের, বিল্লাল কবিরাজ, সোহেল সর্দার বলেন, ‘আমাদের মতো অনেকেই মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন। তাদের তো কিছুই বলছেন না-? মাত্র কয়েক গাড়ি বালু বিক্রি হয়েছে। কিছু টাকা দিয়ে দেই, তা নিয়ে চলে যান। রিপোর্ট লেখলেও লাভ নাই। সবাই ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন করছি।’
উত্তর চরবংশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, ‘বালু উত্তোলনের বিষয়ে উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা মাসিক মিটিংয়ে কথা বলেছি। বালু উত্তোলনের ফলে নদী-তীরবর্তী আবাদি জমি ও রাস্তা ভাঙনের হুমকিতে পড়ছে।’ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) অভিযান চালালেও আবার বালু তুলছেন তারা।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) আকতার জাহান সাথি বলেন, ‘এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। কয়েকবার ভ্রাম্যমান আদালতেও জরিমানা ও ড্রেজার ভাংচুর করাও হয়। শিগগিরই আবারও বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ওসমান গণি/বার্তা বাজার/টি