ইউএনওর বাসায় হামলা: জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে (ভিডিওসহ)
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে।
ইউএনওর বাসভবনের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হামলায় অংশগ্রহণকারীদের নাম ও পরিচয় শনাক্ত করা হচ্ছে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আনসার ও পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের ১৫-২০ জন ও আনসারের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা হতে পারে বলে জানা গেছে।
ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মামলার ব্যাপারে ইউএনও মুনিবুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হামলায় কারা জড়িত ছিল তা সদর উপজেলা কমপ্লেক্সে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হচ্ছে।
এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ব্যানার সড়িয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বসিক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহসহ অন্তত ৩০-৪০ জন আহত হন।
ইউএনওর বাসভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার বাহিনীর প্লাটুন কমান্ডার আব্দুর রহমান গাজী জানান, ব্যানার ও পোস্টার সকালে অপসারণ করার কথা বললে সিটি করপোরেশনের লোকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের খবর দিয়ে নিয়ে এসে ইউএনও স্যারের বাসভবনে ঢুকতে চেষ্টা করেন। এসময় তাদের বাধা দিলে তার মুখে একজন ঘুষি মারেন। তাদের হামলায় বাসভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত তিন আনসার সদস্য ও স্থানীয় একজন আহত হন।
ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইউএনও মো. মুনিবুর রহমান বলেন, উপজেলা পরিষদ কার্যালয় ও আশপাশে শোক দিবস উপলক্ষে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুকের ব্যানার-পোস্টার লাগানো হয়েছিল। রাতে সিটি করপোরেশনের লোকজনকে এসব ছিঁড়তে আসেন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আমার বাসভবন সংরক্ষিত এলাকায় হওয়ায় তাদের সকালে আসতে অনুরোধ করা হয়। এ কারণে তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। একপর্যায়ে তারা আমার বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। আনসার সদস্যরা বাধা দিলে হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পুলিশ এসে একজনকে আটক এবং লাঠিচার্জ করলে সংঘর্ষ হয়। পরে আবার জোটবেঁধে হামলা চালান। তখন গুলি চালানো ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন।
এদিকে হামলার বিষয় অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা জানান, রাতে ব্যানার-পোস্টার সড়ালে কি সমস্যা সেটা জানতে তারা ইউএনওর বাসভবনের দরজায় ঢুকতে গেলে আনসার সদস্যরা গুলি চালান। পরে তারা ফিরে আসেন এবং কিছুক্ষণ পর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে তারা গুলি চালানোর কারণে জানতে ইউএনওর বাসায় গেলে আবারও গুলি চালানো হয় ও পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে প্যানেল মেয়রসহ অন্তত ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।
ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) ফজলুল করিম জানান, ইউএনওর অফিস ও বাসভবন সংরক্ষিত এলাকা। সেখানে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা ঠিক হয়নি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, ইউএনওর বাসভবনের সামনে থেকে তাদের চলে যেতে বলা হলে তারা হামলা চালান। এ সময় সংঘর্ষে অনেকেই আহত হন।
ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বার্তা বাজার/নব