পদ্মা সেতুতে ধাক্কা দেওয়া ফেরিগুলোর একটিরও নেই সনদ

সম্প্রতি নির্মাণাধীন পদ্মাসেতুর পিলারে যে চারটি ফেরি ধাক্কা দিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার একটিরও ফিটনেস সনদ নেই। চারটির মধ্যে আইন অনুযায়ী দু’টির জীবনকাল পার হয়ে গেছে বহু আগেই। এই ফেরিগুলো চলাচল করার কথা না থাকলেও সরকারি সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয় বলে কোনও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না।

ফেরির চালকদের দাবি, ফিটনেস সনদ থাকলে সেগুলোকে কি কি সমস্যা আছে তা বুঝা যায়। কিন্তু ফেরি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিসি কোনও সনদ না নিয়েই চালাচ্ছে ফেরিগুলো।

জানা যায়, শুধু পদ্মা সেতু নয়। সারাদেশে বিআইডব্লিউটিসি যে ৫৩টি দেরি চালায় এর মধ্যে ৪৭টিরই হালনাগাদ ফিটনেস নেই। ২০টির জীবনকাল পার হয়ে গেছে। আর ৫টির বয়স ৯৫ বছর।

অভ্যন্তরীন নৌ চলাচল অধ্যাদেশ (১৯৭৬) অনুযায়ী দেশের নৌপথে কোনও নৌযান ৪০ বছরের বেশি চলতে পারবে না। শুরুতে নিবন্ধনের মেয়াদ হয় ৩০ বছর। এরপর বিশেষ জরিপে উপযুক্ত অবস্থায় পাওয়া গেলে দুই দফায় ৫ বছর করে ১০ বছর বাড়ানো হয়।

মেয়াদহীন ফেরি কেন চালানো হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন, ফেরিগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ক্ল্যাসিফিকেশন সোসাইটিসের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা। এগুলো মজবুত এবং ৪০ বছরের পরও আর্থিকভাবে লাভজনক।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ফেরি যদি মজবুত থাকে তাহলে তা জরিপ করে এবং ফিটনেস সনদ নিয়েই চালানো উচিত।

জানা যায়, দেশে বর্তমানে ৬টি রুটে ফেরি চলে। এগুলো হচ্ছে, আরিচা-কাজীরহাট, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, চাঁদপুর-শরীয়তপুর, ভোলা-লক্ষ্মীপুর, লাহারহাট-ভেদুরিয়া এবং আরিচা-পাটুরিয়া।

নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, দেশে ২৩টি ফেরির ফিটনেস সনদ বিভিন্ন সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এখন মাত্র ৬টির মেয়াদ আছে। বাকিগুলোর নেই।

গত ২০ জুলাই পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা দেওয়া রো রো ফেরি শাহ মাখদুম ১৯৮৫ সালে তৈরি করা হয়। বিআইডব্লিউটিসির নথি মতে, এর হালনাগাদ সনদ নেই।

২৩ জুলাই ধাক্কা দেওয়া ফেরি শাহজালাল তৈরি হয় ১৯৮০ সালে। ফিটনেস সনদ পেরিয়ে যাওয়া এই ফেরির বয়স ৪০ বছর পার হয়ে গেছে। মেয়াদও উর্ত্তীন হয়েছে।

৯ আগস্ট ধাক্কা দেওয়া রো রো ফেরি বীর শ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ১৯৯৩ সালে তৈরি। এর মেয়াদও গত ১৭ জুলাই শেষ হয়েছে।

১৩ আগস্ট পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা দেওয়া ফেরি কাকলী ১৯৭৪ সালে তৈরি। এই ফেরিটির নিবন্ধন কিংবা সনদ পাওয়ার কোনো সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই।

এছাড়া, বর্তমানে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে চলছে ফেরি কুঞ্জলতা, বেগম রোকেয়া, বেগম সুফিয়া, ক্যামেলিয়া ও কদম। এগুলোর মধ্যে শুধু ক্যামেলিয়ার হালনাগাদ ফিটনেস সনদ রয়েছে।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর