বন্দুকযুদ্ধে দুই যুবকের মৃত্যুতে কেরানীগঞ্জে মিষ্টি বিতরণ

বন্ধুকযুদ্ধে দুই যুবক নিহতের ঘটনায় কেরানীগঞ্জে আনন্দ উল্লাস করে মিষ্টি বিতরণ করেছেন তাদের হাতে নির্যাতিত ভুক্তভোগীরা। নিহত দুই যুবক হলো, মোহাম্মদ সজীব (৩৫) ও তাইজুল ইসলাম ওরফে তাজেল (৩৮)। তারা সম্পর্কে বৈপিত্রেয় ভাই। তাদের বাড়ি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন আব্দুল্লাহপুর করেরগাঁও এলাকায়।

এরইমধ্যে আনন্দ উল্লাসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, তারা র‍্যাব সদস্যদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।

এসময় তারা বলছিলেন, সজীব ও তাজেলের মৃত্যুতে আমারা সবাই অনেক খুশী। সজীব এর মতো সন্ত্রাসী, ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের এভাবে মৃত্যু হলে ডাকাতি ও ছিনতাই থাকবে না। দেশকে আমার সন্ত্রাস মুক্ত চাই। আমাদের কে যেনো আর ছিনতাই বা ডাকাতির কবলে পড়তে না হয়। এইজন্য র‍্যাবের এই অভিযানে আমার অনেক খুশী।

তবে তাদের এ মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, র‍্যাব দুইজনকে ধরে নিয়ে অন্যায়ভাবে গুলি করে হত্যা করেছে।

নিহতের স্ত্রী নাজনীন আক্তার ও তাজেলের স্ত্রী মীনা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, ২৩ ও ২৫ জুলাই বাসার সামনে থেকে র‍্যাব-১০ দুই ভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরে তারা র‍্যাব-১০ এর কার্যালয়ে যান। পরে তারা আটক করেনি বলে জানায় এবং সেখান থেকে র‍্যাব-১১ এর অফিসে খোঁজ নিতে বলা হলে সেখানে গিয়ে তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে পুলিশের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে মর্গে এসে লাশ শনাক্ত করেন তারা।

নিহতদের মা তাসলিমা বেগম জানান, ছেলেদের নামে মাদক সেবনের অভিযোগে থানায় মামলা থাকলেও খুন খারাবির কোনো মামলা ছিলো না।

এদিকে র‍্যাব বলছে, নিহত সজীব ও তাজেল দুই ভাই মিলে এলাকায় চুরি, ডাকাতি-ছিনতাই ও খুন করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তাদের এই ডাকাত দল ঢাকা মাওয়া হাইওয়ে এলাকায় নিয়মিত ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

র‍্যাব-১০এর এএসপি (অপারেশন অফিসার) এনায়েত কবীর সোয়েব জানান, নিহত সজীবের নামে ২টি ডাকাতির প্রস্তুতি, ১টি ডাকাতি, ১টি অস্ত্র ও ১টি হত্যা মামলা রয়েছে। সজীব দিনে-দুপুরে অটোরিকশা ছিনতাই করতেন। এরপর অটোরিকশা মালিকের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন এবং না পেলে মালিককে মারধর করতেন। তার বিকাশে খোঁজ নিলে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যাবে।

এছাড়া তাজুলের নামে মোট ৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২টি হত্যা, ১টি অস্ত্র, ২টি ডাকাতির প্রস্তুতি, ২টি মাদক মামলা। কেরাণীগঞ্জের ঝিলমিল প্রকল্প এলাকায় মোটর সাইকেল, সিএনজি, অটোরিকশা, ছিনতাই-ডাকাতি করা ছিল তাজুলের নেশা ও পেশা।

এসময় তিনি আরও জানান, অভিযানকালে র‍্যাবের তিন সদস্য আহত হয়েছে। তারা হলেন- এএসআই শফিকুল ইসলাম, নায়েক জাকিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল মশিউর রহমান। তাদের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, র‍্যাব জানায়, গত সোমবার রাত দেড়টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় একদল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন খবরে র‍্যাব অভিযান চালায়। র‍্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ডাকাতরা গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে র‍্যাবও পাল্টা গুলি করে।

পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ দুই যুবককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

রানা আহমেদ/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর