১৮, অক্টোবর, ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৭ সফর ১৪৪০

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী কি ‘বাহবা’ পেতে পারেন না?

আপডেট: আগস্ট ৬, ২০১৮

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী কি ‘বাহবা’ পেতে পারেন না?

অনিমেষ চৌহান : ‘রাজধানীর ঝিগাতলায় ছাত্র হত্যা ও ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার কোন সত্যতা নেই।বিষয়টি পুরোপুরি গুজব। এতে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। পুলিশকে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’

আশা করি, মুঠোফোন ব্যবহারকারী প্রত্যেকেই এই বার্তাটি পেয়েছেন। গত পরশুর কথিত ধর্ষণ ও খুনের গুজবের পর গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় সরকার জনগণের মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তাটি প্রেরণ করে। তবে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। ওই সময় যদি তিনি ছাত্রদের আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয় স্বচক্ষে দেখিয়ে না আনতেন, তবে সরকার যতই বার্তা দিক না, তার কোন মূল্য থাকতো না।

এখন পর্যন্ত ওই ঘটনার যা জানলাম। ঝিগাতলায় প্রথম হামলা করে কয়েকজন স্থানীয় যুবক। তাদের মোটর সাইকেল কাগজ চেক করা নিয়ে দুপুরে এই হামলার সূত্রপাত। এরপর শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে যুবকদের ধাওয়া দেয়। এ সময় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন উত্তেজিত কর্মী ছাত্রদের ধাওয়া করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এরপরই গুজব রটানো হয়, চারজন ছাত্রকে খুন করা হয়েছে। কয়েকজন ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং কয়েকজন ছাত্রকে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এই গুজবে বিশ্বাস করে আশপাশ থেকে আরও অনেক ছাত্রছাত্রী জমায়েত হয়ে ধানমন্ডি ৩ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে হামলা চালায়। শিক্ষার্থীদের অসংখ্য ইটপাটকেলে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ১৭-১৮ জন আহত হয়।

তারা জাপান বাংলাদেশ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। পরে আওয়ামী লীগের লোকজন পাল্টা হামলা চালায়। এরপর থেকে দফায় দফায় সন্ধ্যা পর্যন্ত সাইন্সল্যাব মোড় থেকে ঝিগাতলা মোড় পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। কয়েক দফায় শিক্ষার্থীদের ৩০-৩৫ জন আহত হয়। তারা পপুলার হাসপাতালে ভর্তি হয়।

পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী কয়েকজন ছাত্র প্রতিনিধিকে ডেকে ধানমণ্ডির আওয়ামী কার্যালয়ে নিয়ে যান। শিক্ষার্থীরা আওয়ামী অফিস ঘুরে দেখে জানায়, সেখানে কাউকে আটকে রাখা হয়নি, তারা গুজবের শিকার হয়েছিল মাত্র। পরে তূর্য নামের এক ছাত্র প্রতিনিধি তিনদিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা দেন। তখন অনেক ছাত্র ‘না, না’ বলে চিৎকার করতে থাকে।

ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের মেরে শেষ করে দিচ্ছে, ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয়েছে, চারজনকে খুন করা হয়েছে, মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হয়েছে–এই সব কথা বলে দিনভর ফেসবুকের প্রচারে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করেছেন গোলাম রাব্বানী। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের এমন মধ্যস্থতাকে বাহবা না দিয়ে উপায় নেই। এরও আগে দুপুরে শাহবাগে শিক্ষার্থীদের চকলেট দিয়ে আন্দোলনে সংহতি জানাল ঢাবি ছাত্রলীগ, এর প্রশংসাও গোলাম রাব্বানীসহ ছাত্রলীগের পাওয়া উচিত নয় কি?