সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নে এলজিইডির গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেড় কিলোমিটার রাস্তার কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের কয়েক দফা অভিযোগের পরও থামানো যাচ্ছেনা এ অনিয়ম। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই এলজিইডির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি এ রাস্তার কাজে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করে আসছিলো। এ নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে কয়েক দফা অভিযোগ করা হলেও তারা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে ওইসব নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে যাচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলা হেড কোয়ার্টার থেকে রতনকান্দি জিসি পর্যন্ত (চেইন- ৮,৪০০ মিটার হতে চেইন-৯,৯০০ মিটার) এলজিইডির গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ কাজ চলমান রয়েছে। ১ কোটি ৩৮ লাখ ২৪হাজার ১১ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীণ এ কাজটি পায় পাবনার সুজানগরের মেসার্স তীর্থ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ দেয়া হয়। যা ওই বছরের ৩০ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এখনও কাজটি চলমান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এলজিইডি’র কর্মকর্তাদের নিরব ভূমিকার কারণেই নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বারবার বলা হলেও এর কোন সুরাহা পাওয়া যায়নি।
মোজাফফর হোসেন বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কয়েক দফা অভিযোগ করে। কাজও কয়েকদফা কাজ বন্ধ ছিলো। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডি’র লোকজন ভালমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতিও দেয়। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে আবারও ওই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই কাজ করা হচ্ছে।
শাহজাহান মোড়ের বাসিন্দা রেজাউল জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ও এলজিইডি’র লোকজনকে এসকল বিষয়ে জানালেও তারা দেখি, দেখছি বলে কালক্ষেপন করে নিম্নমানের ইট ও খোয়া দিয়েই কাজ করে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত এনামুল হকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা এক নম্বর ইট-খোয়ার জন্য সরবরাহকারীকে টাকা দিয়েছি। কাজের সাইডে না থাকায় আমাদের অগোচরে কিছু নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়েছে সরবরাহকারীরা। পরবর্তীতে সেগুলো সরিয়ে ভালমানের খোয়া দিয়েই কাজ চলছে।
কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য দেননি। তবে, সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী বাবলু মিয়া জানান, কয়েক গাড়ী ইট-খোয়া নিম্নমানের ছিলো। সেগুলো অপসারণ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে।
এম এ মালেক/বার্তা বাজার/এসজে