তাড়াইলে টিকা নিতে দীর্ঘ লাইন, স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে করোনার টিকা প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন।সামাজিক দুরত্ব না মানায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থবিধি।
জানা গেছে,সরকার ঘোষিত সারা দেশের ন্যায় তাড়াইল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আঠারোউর্দ্ধ সকল শ্রেণির নাগরিকদের করোনা প্রতিরোধে টিকাদানের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বুধবার (১৮আগস্ট) সিনোফার্মের ১ম ও ২য় ডোজ এবং এস্ট্রোজনিকার ২য় ডোজের টিকাদানের কার্যক্রম চলছিল। তবে টিকার সল্পতার কারনে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও বেশিরভাগ মানুষ টিকা ছাড়াই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। তাছাড়া গাদাগাদি করে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে থাকার কারণে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থবিধি।
বুধবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে দশটায় সরেজমিনে দেখা গেছে,টিকাদান কেন্দ্রে মানুষের উপচেপড়া ভীড়,চিৎকার চেচাঁমেচিতে বুঝার উপায় নাই এটা করোনার টিকাকেন্দ্র।
প্রায় পাঁচ শতাধিক টিকা প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন। গাদাগাদি করে দাঁড়ানোর ফলে একজনের সাথে অন্যজনের সামাজিক দুরত্ব যেমন থাকছে না তেমনি করোনার সংক্রমনের ঝুকিও বাড়ছে। নেই কোনও আনসার বা আইন শৃংঙ্খলার সদস্য।
টিকা গ্রহীতাদের কারো কারো অভিযোগ তিনদিন,চারদিন ও পাঁচদিন যাবত লাইনে দাঁড়ানোর পরেও টিকা ছাড়াই বাড়ি ফিরতে হয়েছে।
উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের রাহেলা থেকে টিকা নিতে এসেছেন বয়সের ভারে নুজ্ব্য হতদরিদ্র ৭৮ বছর বয়সী সারবান বেগম তিনি জানান,তিনি ডায়াবেটিক এর রোগী। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। লাইনে ধাক্কাধাক্কির কারনে টিকাদানের সামনে নিবন্ধন হাতে মেঝেতে বসে আছেন। আজ তিন দিন যাবত বাড়ি থেকে টিকা নিতে আসছেন আর ফিরছেন টিকা ছাড়াই। আসা যাওয়া বাবদ খরচের টাকাটাও লোকজনের কাছ থেকে হাত পেতে নিতে হয়।
সারবান বেগমের মতো একই অভিয়োগ করেন ওই ইউনিয়ন থেকে আসা শারিরিক প্রতিবন্ধী হাফসা আক্তার,জোবেদা,নারায়ন বর্মন,গৌরাঙ্গ বর্মন,নিতাই বর্মন,মঙ্গল বর্মন এবং রাউতি ইউনিয়নের বেলপাড়ার রিপা আক্তার,জোস্না বেগম সহ আরো অনেকে। তারা জানান,পাঁচদিন যাবত ঘন্টর পর ঘন্টা লাইনে থেকেও টিকা ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.বদরুল হাসান টিকা প্রাপ্তির সল্পতার কথা স্বীকার করে বার্তা বাজারকে জানান,আমরা যে পরিমাণে টিকা পাই তার থেকে কয়েকগুন টিকা প্রত্যাশীর কারণে টিকা ছাড়াই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
তিনি জানান,আজ আমাদের স্টকে থাকা ১ম ও ২য় ডোজ মিলিয়ে ৪১৬জনকে সিনোফার্মের টিকা প্রদান করা হয়েছে এবং এস্ট্রোজনিকার ২য় ডোজের টিকা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান গতকাল মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) আমরা একদিনে সর্বোচ্চ ৯৮৯ জনকে টিকা প্রদান করেছি।
সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমদিকে তাড়াইল থানা পুলিশের দুইজন সদস্য এবং কয়েকজন আনসার সদস্য সামাজিক দুরত্ব দেখভাল করলেও বিগত কয়েকদিন যাবত কি কারনে কেউ আসেনা তা বোধগম্য নয়। আমরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীগণ তটুকু পারছি সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থবিধি মেনে টিকা গ্রহন করার জন্য জনসাধারণকে আহবান করছি।
বার্তা বাজার/টি