পাকুন্দিয়ার একটি রাস্তার করুণ গল্প

একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার বেহাল দশা। হয়ে যায় হাঁটু সমান কাঁদা। একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। চরম দুর্ভোগে পড়েন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের বাহাদিয়ার মিরারটেক ১০৭ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্নে থেকে দাওরাইতের এগারসিন্দুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বজলুল হক বাবুল এর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার এ বেহাল দশা। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন মিরাররটেক, বাহাদিয়া, দাওরাইত, আদিত্যপাশাসহ আশপাশের অন্তত ৬ টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে।

এলাকাটি বিল অঞ্চল হওয়ায় কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। বর্ষাকালে রাস্তাটির এমন বেহাল দশার কারণে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ও মাছ বাজারজাত করতে চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় মৎস্যজীবী ও কৃষকরা। এসব এলাকায় শতশত প্রবাসী রয়েছেন। তাদের দাবি রাস্তাটি স্থায়ীভাবে পাকাকরণ করা হোক।

বর্ষার মৌসুমে মানুষের চলাচলের জন্য কোন প্রকার যানবাহনতো দূরের কথা পায়ে হাঁটার উপায়টুকুও নেই ওই গ্রামে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া আাসা, রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া আসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদী কেনাকাটার জন্য বাজারে যাওয়া আসা এক চরম ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে মিরারটেক গ্রামের অনেকেই বলেন, পাকুন্দিয়া উপজেলা নয় বাংলাদেশের কোনো গ্রামের রাস্তা এরকম আছে কিনা আমাদের জানা নেই। কেননা রিকসা, অটোরিকসা, বাইসাইকেলতো দূরের কথা মানুষের পায়ে হেঁটে যাওয়াই কষ্টকর। এ রাস্তা দিয়ে হাঁটলে দুই ফুট পা মাটির নিচে চলে যায়। আমাদের গ্রামের একমাত্র রাস্তা এটি যা চলাচলের জন্য খুবই কষ্টকর। ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারও বলেছিলেন রাস্তাটি মেরামতসহ পাকাকরণ হবে। কিন্তু কাজের বেলায় কিছুই হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে স্থানীয় এলাকাবাসীদের দুর্ভোগের কথা ভেবে উক্ত রাস্তাটি পাকা করণে স্থানীয় ইউপি সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছোবান মেম্বারের বাড়ির সামনে মিরারটেক ১০৭ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্নে থেকে দাওরাইতের এগারসিন্দুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বজলুল হক বাবুল এর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় বড়বড় গর্ত, কিছুদিন পূর্বে ট্রাক্টর যাতায়াতের কারণে বেশিরভাগ রাস্তায় গর্ত হয়ে গেছে, আবার কিছু জায়গায় রাস্তা ভেঙ্গে বিলের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মিরারটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় হাঁস কাঁদা পানিতে সাঁতার কেটে খাবার খাচ্ছে। কেউ সাইকেল মাথায় নিয়ে পাশের জমি ও বাড়ির ভিতর দিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে এগারসিন্দুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং প্যানেল চেয়ারম্যান মো আবুল কাশেম বলেন, মিরারটেকের রাস্তার বিষয়টি মাত্র আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।

উপজেলা স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ( এল জি ই ডি) কর্মকর্তা মো হাবিবুল্লাহ জানান, গ্রামীন কাঁচা রাস্তা হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে বেহাল অবস্থা হয়ে যায়। রাস্তাটির জন্য বরাদ্দ চেয়ে একটি প্রজেক্ট পাঠিয়েছি। বরাদ্দ আসলেই রাস্তার উন্নয়ন কাজ করবে উপজেলা স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ( েলজিইডি)।

হুমায়ুন কবির/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর