লিজা আক্তার। সাভার উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট দলের দলনেতা। আশরাফুজ্জামান ইমন, সাব্বির আহমেদ, ইমন, সাকিব, সূচনা, আঁখিসহ আরও অনেকে তার সহযোদ্ধা। এরা সবাই সেই করোনার শুরু থেকে সকল ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে, সাভার উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট দল এর হয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বয় করে সাভারে করোনা মোকাবেলায় কাজ করে চলেছে।
সাভারে করোনা ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম দেখতে গিয়ে কথা হয় এই তরুণীর সাথে। সাভার পৌর যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাভার উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট দলের দলনেতা লিজা আক্তার বার্তা বাজার প্রতিনিধিকে জানালেন করোনা যুদ্ধে তাদের বিভিন্ন ভূমিকা সম্পর্কে।
প্রথমেই জানতে চাওয়া হয়, করোনার শুরু থেকে ‘ফ্রন্ট লাইনার’ হিসেবে কাজ করতে গিয়ে কখনো ভয় লেগেছে কিনা? লিজা জানান, আসলে ভয় পেলে তো আমরা কাজ করতে পারবো না। আমরা যদি ভয় পাই, তাহলে সাধারণ মানুষ আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে। আপনারা জানেন, যখন থেকে এই করোনা মহামারি শুরু হয়েছে, তখন থেকেই আমাদের যুব রেড ক্রিসেন্ট এর সকল সহযোদ্ধাদের বলেছি, আমরা যদি ভয় পেয়ে ঘরে বসে থাকি তাহলে মানুষের সেবা করবে কে? যেহেতু আমাদের সংগঠন মানুষের সেবা করার জন্য, তাহলে আমাদের তো ঝুঁকি নিয়েই বাইরে কাজ করতে হবে। আপনারা এরই মধ্যে দেখেছেন, সাভারে যখন প্রথম করোনা মহামারি শুরু হয়, আমরা প্রথম থেকেই এর প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মাস্ক বিতরণ সহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হই। যুব রেড ক্রিসেন্ট যেহেতু একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন, তাই এর সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত সকল সুযোগ-সুবিধা আমরা সাভারে করোনা প্রতিরোধে কাজে লাগাই এবং পাবলিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কাজে ব্যবহার করি।

তিনি বলেন, এরপরে যখন ভ্যাক্সিনেশনের কাজ শুরু হয়, তখন শুরু থেকেই সারা বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিভাগের ডাক্তারদের সাথে সমন্বয় করে যুব রেড ক্রিসেন্ট কাজ করছে। সাভারেও একই পদ্ধতিতে আমরা কাজ করে আসছি। আপনারা জানেন, সাভার
একটি ডেনজার জোন, এই জোনে আমরা যুব রেড ক্রিসেন্ট দলের সবাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। প্রথম দিকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যখন কাজ করতাম, তখন একদিকে করোনার টেস্ট হতো, আরেকদিকে ভ্যাক্সিনেশন এর কাজ চলতো। অনেকসময় দেখা যেতো, পজিটিভ রোগী পাশে এসে বলতো, ‘আমি পজিটিভ রোগী!’ তো সেই সময় আমাদের সহযোদ্ধাদের মনের ভিতর কতটুকু ভয় তৈরী হতো তা সহজেই অনুমান করতে পারবেন। কিন্তু আমরা কি করতাম? তাদেরকে স্বাভাবিক ভাবেই হ্যান্ডেল করেছি, ভয় পেলেও তাদেরকে বুঝতে দেইনি। কাউকে কখনোই এসময় আমরা ভেঙ্গে পড়তে দেই নাই। সহযোদ্ধাদের বুঝিয়েছি, আমরা যদি কাজ না করি, মানুষ সেবা কিভাবে পাবে?
চলমান করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম সম্পর্কে লিজা আক্তার জানান, সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে এখন অনেক বেশী নিবন্ধিত মানুষ আসায়, প্রতিদিন আয়াদেরকে ১৫শ’ থেকে দুই হাজার টিকা দিতে হচ্ছে। আমরা সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বয় করেই এই কার্যক্রম চালাচ্ছি।
কোন পদ্ধতিতে সাভারবাসী করোনার টিকা গ্রহন করছেন এসম্পর্কে জানতে চাইলে লিজা বলেন, এখনকার সিস্টেম হলো, আমরা মূল গেট থেকে নিবন্ধন কার্ড স্ক্যান করি। এখানে আমাদের ভলান্টিয়াররা স্ক্যান করে ডাটা এন্ট্রি করে পাঠায়। প্রতিটি বুথেও আমাদের ভলান্টিয়ার কাজ করছে। তারাও ওখানে এন্ট্রি করে। সেখানে নার্স রয়েছে, তারা ভ্যাক্সিন পুশ করে।
‘করোনা পরিস্থিতিতে আমরা মানুষের জন্য কাজ করতে পেরে খুশী, আমাদের ভালো লাগে’- এমনটা জানিয়ে এই তরুনী আরও বলেন, আমরা ১৯৭১ সালের যুদ্ধ দেখিনি; কিন্তু করোনা যুদ্ধে আমরা যুব রেড ক্রিসেন্ট দল ফ্রন্ট লাইন সোলজার হিসেবে যুদ্ধরত! আমাদের তরুন প্রজন্ম যে এই যুদ্ধে অংশগ্রহন করতে পেরেছি, এটা আমাদের জন্য অনেক কিছু। স্বাভাবিক নিয়মে একদিন আমরা হয়তো মারা যাবো, কিন্তু এই করোনা কালে মানুষের জন্য আমরা যে কাজ করে যাচ্ছি, তা সাভারবাসী নিশ্চয়ই মনে রাখবে। আমাদের পরের প্রজন্ম একদিন বলবে, ‘তখন একটা যুদ্ধ ছিলো, আমাদের পূর্ব প্রজন্ম সেই যুদ্ধ অংশ নিয়েছিলো!’
সাভারবাসী যারা এখনও করোনার টিকা গ্রহণে নিবন্ধন করে নাই, তাদেরকে নিবন্ধন করে ভ্যাক্সিন গ্রহনের আহবান জানান সাভার উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট দলের দলনেতা লিজা আক্তার।
সরেজমিনে সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যাক্সিন নিতে আসা মানুষের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সকলেই তাদের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মো. আল মামুন খান/বার্তা বাজার/এসজে