এবার বিদ্যালয়ের ছাদ ঢালাইয়ের আগেই রড চুরি

ছাদের ঢালাইয়ের জন্য বেঁধে রাখা রড চুরি। ছবি- বার্তা বাজার

পটুয়াখালীর বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়নের মধ্য চাঁদকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের রড চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। চুরি হওয়া রডের বাজার মূল্য আড়াই লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ঠিকাদার।এঘটনায় বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। সোমবার (১৬ আগস্ট) বিকাল ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৮-১৯ অর্থবছরে এলজিইডির অর্থায়নে ৯৬লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন মেসার্স এস.এইচ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে ভবন নির্মাণের প্রায় ৭০শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছে। ছাদের রডও বাঁধা হয়েছিল। কোরবানি উপলক্ষ্যে কিছু দিন কাজ বন্ধ রাখা হয়। এ সুযোগে ছাদে বাঁধানো রড থেকে ২টন রড চুরি হয়ে যায়।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জানায়, এর আগে প্রায় ২মাস আগে নির্মাণ কাজের রাখা দেড় টন রড ও মানির পাম্প (মটর) চুরি হয়েছিল।

নির্মাণ কাজে নিয়োজিত একাধিক নির্মাণ শ্রমিক জানায়, ছাদ ঢালাইয়ের জন্য রড বেধে রাখা হয়েছিল। কোরবানির কারণে কাজ বন্ধ ছিল। এ সুযোগে ১২টি কলাম থেকে ৪টি করে ও টপ থেকে প্রায় ২টন রড চুরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো.জসিম উদ্দিন বলেন, এ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করছেন সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে মো. মান্না হাওলাদার। স্থানীয় রাজনৈতিক কোন্দলের কারনেই এমন ঘটনা ঘটে পারে। একটি প্রভাবশালী মহল কয়েক বার নির্মাণ কাজে বাঁধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

তবে কে বা কারা এ রড চুরি করেছে তা নির্দিষ্ট করে কেউই বলতে পারছে না।

এ বিষয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধি মো. মান্না হাওলাদার বলেন, ‘আমার বাবা ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। গত নির্বাচনের পর থেকেই আমাকে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে আসছে বিরোধীপক্ষ। দুই দফায় আমার কাজের সাইট থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকার চুরি হয়েছে। এছাড়াও আমি ধুলিয়া লঞ্চঘাটের ইজারাদার। আমাকে এবং লোকজনকে ইজারা আদায়ে বাঁধা দিচ্ছে প্রভাবশালীরা।

এলজিইডির নির্মাণ কাজ তদারকি কর্মকর্তা মো. আব্বাস জানান, ঘটনা শুনেছি। তবে আমাদের করনীয় কিছু নেই। আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছি।

বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন। তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এম.এ হান্নান/বার্তা বাজার/এসজে

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *