নান্দাইলে বিদ্যালয়ের মাঠে গভীর গর্ত, পাশেই মাটির উচু স্তুপ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন তৈরির জন্য পুরাতন একটি ভবনের দুই তৃতীয়াংশ ভেঙ্গে করা হয়েছে গভীর গর্ত। আর গর্তের মাটি স্তুপ করে রাখা হয়েছে বিদ্যালয়ের মাঠে। বৃষ্টির পানিতে গর্তটি ভরে গেছে। মাটির স্তুপে ঢেকে গেছে বিদ্যালয়ের বাকি অংশ ও শহীদ মিনার। ঠিকাদারের গাফিলতির জন্য ২০ মাস ধরে এভাবে পরে থাকলেও নির্মাণ কাজ আর শুরু হচ্ছেনা। এ অবস্থায় বিদ্যালয় খোলার ঘোষনা হলেই পাঠদানে সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রানহানির আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও এলাকাবাসি।

জানা গেছে, মুশুলী ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে ৫৪ শতক জমির উপর ১৯২৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতদিন তিনটি শ্রেণিকক্ষ ৫ জন শিক্ষক দ্বারা একতলা একটি ভবনে ২৫০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চলে আসছিল। ভবন সংকটের কারণে স্থানীয় সংসদ সদস্য চারতলার ভিত্তি দিয়ে দুইতলা একটি ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ১ কোটি ২ লাখ টাকা বরাদ্ধের এ ভবন নির্মাণের কাজ পান স্থানীয় ঠিকাদার কামাল হোসেন।

ঠিকাদারের লোকজন মাঠের পূর্বদিকে উত্তর-দক্ষিণে ভেকু দিয়ে লম্বালম্বি গভীর গর্ত করে সেই মাটি মাঠেই স্তুপ করে রাখে। মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মাঠ লাগোয়া গর্তটি পানিতে ভরে আছে। গর্তে পানির গভীরতাও অনেক। আর মাঠে মাটির স্তুপ ভবনের বাকি অংশ ও শহীদ মিনার ঢেকে গেছে। এর মধ্যে পুরাতন ভবনের অংশটুকুও গর্তের কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এসময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরজাহান ফেরদৌসী জানান, ঠিকাদার ও ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও কেন কাজ হচ্ছেনা তা বলতে পারব না। তবে স্কুল খোলা হলেই গর্তটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিপদজনক হবে। কাজ না করার বিষয়ে জানতে ঠিকাদার কামাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক বলেন, ভবনের জন্য আমরা জায়গা খালি করে দিয়েছি। এখন এটা তদারক করবেন উপজেলা প্রকৌশল অফিস।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আল-আমিন সরকার বলেন, আমরা ওই ঠিকাদারকে চুড়ান্ত নোটিশ দিয়েছি। দ্রুত কাজ শুরু না করলে কাজ বাতিল করা হবে।

মজিবুর রহমান ফয়সাল/বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর