উত্তম আর্য্য,টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার স্কুল ছাত্র হৃদয়ের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মামলার প্রধান আসামী সবুজসহ একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি কালিহাতী থানা পুলিশ। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা । এদিকে হৃদয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখনো মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। হৃদয়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে গত শুক্রবার সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এলেঙ্গা সর্বস্তরের মানুষ। বিক্ষোভ সমাবেশে কালিহাতীর অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত ) নজরুল ইসলাম আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ^াস দিলে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেন এলাকাবাসী। কিন্তু ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একজন আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মো. হৃদয় মোল্লা এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ও এলেঙ্গা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক প্রচার সম্পাদক শহিদুল ইসলামের ছেলে।
শহিদুল ইসলাম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে যে আমানবিকভাবে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। বেঁচে থাকলেও আমার ছেলে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে না। তারপরেও পুলিশ একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। হত্যার উদ্দেশ্যে যারা আমার ছেলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওহাব জানান, আসামীদের গ্রেপ্তার করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন বিকালে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাঁশী এলাকার সবুজ ও তার ভাই সজীব, রাফি,মামুনসহ ১০-১৫ জন যুবক র্যাগিং করে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র হৃদয়ের ওপর পৈশাচিক ভাবে অমানষিক নির্যাতন করে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।