ছোট চরে ৫ প্রতিবন্ধী, মানুষের সহায়তায় চলছে জীবন

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের হাট বাড়ি চরে ৫ জন প্রতিবন্ধী অর্থের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সোমবার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে ঘুরে এসব তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

বৃদ্ধা মহিলা আল খাতুন(৭৫) বয়সের ভারে নুয়ে পরেছেন ছোট একটি কুঁড়েঘরে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের প্রতিবন্ধকতাও যেন বেড়েই চলেছে। এ বয়সে তিনি চোখে কম দেখেন, কানে শোনেন না,লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটে।সব কিছু মেনে নিতে পারলেও পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য কষ্ট করে যাচ্ছেন। তিন সন্তানের জননী হয়েও অসহায় হয়ে পড়ে আছে দরজা জানালা বিহীন ঘরে। সন্তানেরাও সহায়-সম্বলহীন হাওয়াই তাদের মাকে উন্নত চিকিৎসা দিতে পারছে না।

জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী কিশোর তনু (২০)। সে চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের হাটবাড়ি চরের শাহজাহান আলীর ছেলে। তার মা দিন-রাত কষ্ট করে যাচ্ছেন তাকে ভালো রাখার জন্য কিন্তু সংসারের অভাব অনটনের জন্য সন্তানের উন্নত চিকিৎসা খাবার খরচ ঠিকমতো দিতে পারছেন না কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে এসব কথায় বলছিলেন প্রতিবন্ধী তনুর মা। তনু বিভিন্ন অসুখে জর্জরিত হলেও তার কণ্ঠে সুরেলা গান রয়েছে যা চরের মানুষ কে উজ্জীবিত করে তনুকে চিকিৎসা করার জন্য চরের মানুষের থেকে সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা করায়।প্রতিবন্ধী কার্ড থাকলে হয়তো আরো ভালো চিকিৎসা করাতে পারতেন বলে আশা করেন তনুর মা।

একই চরের আরেকজন মানসিক প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ ডাবলু (২৫)। তার পিতার নাম দুলু শেখ বয়সের ভারে কাজকর্ম ঠিক মতন করতে পারেন না। ডাবলু ১৫ বছর ধরে মানসিক সমস্যা থাকায় বাড়ি থেকে হারিয়ে যায় এক মাস অথবা তারও বেশি দিন পরে বাড়িতে ফিরে। ডাবলুর মা বলেন ভাল ডাক্তার দেখাতে পারলে আমার ছেলে ভালো হয়ে যাবে। টাকার অভাবে ভালো কোন ডাক্তার দেখাতে পারি না সাহায্য চেয়ে নিয়ে মাঝে মাঝে ডাক্তার দেখাই। আমরা গরীব মানুষ যতটুকু পারি করে যাচ্ছি নিজের ছেলের জন্য।

একই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে মমতা খাতুন (১২)ছোট থেকেই প্রতিবন্ধী এবং নজর আলী শেখের শিশু ছেলে জাহিদ (৭) বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।

এসব পরিবারের চাওয়া তারা তাদের সন্তানকে ভালোভাবে মানুষ করতে চায়। সেজন্য সবার সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিতে আকুল আবেদন করেছেন।

চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের হাটবারি চরের সাইদুর রহমান, সাহাজুল শেখ ও তারাজুল ইসলাম বলেন, এসব প্রতিবন্ধী পরিবার খুবই দরিদ্র। এরা খুব কষ্টে জীবন যাপন করে। আমরা সবাই টাকা তুলে তাদের চিকিৎসা অথবা অন্য কাজে সাহায্য করে থাকি। আমরাও খেটে খেয়ে বাঁচি, সব সময় সাহায্য করা হয়ে ওঠে না।

চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে যতটুকু পারি কার্ড করে দিয়েছি।আমি চেয়ারম্যানের কাছে অনেক আকুল আবেদন করেছি আর যেগুলো প্রতিবন্ধী আছে তাদের যেন প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দিতে পারি। আমার কাছে স্বল্প পরিসরে ভাতার কার্ড আছে যার জন্য সবাইকে দিতে পারিনা।

চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বলেন, আমাদের কাছে যা কার্ড আসে সব গুলো মেম্বারের মধ্যে ভাগ করে ভাতার আওতায় আনা হয়। পর্যাপ্ত প্রতিবন্ধী ভাতা না পাওয়ায় সব প্রতিবন্ধিদের দেওয়া সম্ভব হয় না ।

সারিয়াকান্দি উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নাঈম হাসান বলেন, আমরা জরিপের মাধ্যমে ভাতার আওতায় নিয়ে আসি।প্রতিবন্ধীদের সহয়তায় কাজ করে যাচ্ছি আমরা। হাটবাড়ি চরে যারা বাদ পড়েছে তাদের পরবর্তীতে ভাতার আওতায় আনা হবে।

নাজমুল হাসান/বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর