মিথ্যা অভিযোগ ও সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে মাদারীপুর এ্যাম্বুলেন্স সমিতির প্রতিবাদ

মাদারীপুর হাসপাতাল থেকে গুরুতর অসুস্থ এক রোগীকে তার স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্য নিতে চেয়েছিলেন খুলনায়। সদর হাসপাতালের চত্ত্বরে থাকা এ্যাম্বুলেন্স চালকরা ভাড়া দাবী করে ৬ হাজার টাকা। কিন্তু পরিবারটি এটাকায় ভাড়া না করে অন্য একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে, যাতে একজন রোগীর সুবিধার জন্য কোন প্রকার সরঞ্জাম নেই। হাসপাতালের সামনে এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রোগী উঠাতে গেলে বাঁধ সাধে মাদারীপুর এ্যাম্বুলেন্স চালক সমিতি ও তারা প্রায় দুই ঘন্টা ওই রোগীকে আটকে রাখে এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদ করেছে মাদারীপুর বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স সমিতি।

সোমবার (১৬ আগষ্ট) দুপুরে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনে এ প্রতিবাদ সভা করেন তারা।

নিহত আরজু বেগমের আত্মীয় জানান, আরজু বেগম লিভারজনিত সমস্যায় মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গত (১৪ আগষ্ট) শুক্রবার সকাল থেকেই তার শরীরের অবস্থা অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। বিকেলে এ্যাম্বুলেন্স চালকদের সাথে স্বজনদের ভাড়া বনিবনা না হওয়ায় একটি প্রাইভেটকারে করে রোগী নেয়ার চেষ্টা করলে বাঁধা দিয়ে গাড়ি আটকে রাখে এ্যাম্বুলেন্স চালকরা। পরে চালক ও আমাদের সাথে প্রায় দেড়ঘন্টা কথাকাটি ও বাক-বিত- হয়। আমাদের আক্ষেপ যদি সময়ক্ষাপন না করে সঠিক সময় রোগী নিতে পারতাম, তবেই রোগী বাঁচাতে সম্ভব হতো বা ডাক্তারের একটা পরামর্শ নিতে পারতাম।

মাদারীপুর বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স সমিতির সাধারন সম্পাদক মো. মশিউর রহমান রিপন জানান, সেদিন যে ঘটনা ঘটেছে সেখানে আমাদের কোন দোষ নাই। যে রোগীকে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আমাদের দোষ দিচ্ছে সেই রোগীর ছিল করোনা। আর করোনা রোগীর অক্সিজেন আগে প্রয়োজন। যা আমাদের এ্যাম্বুলেন্সে থাকে অন্য গাড়ীতে থাকে না। তাছাড়া আমাদের ভাড়া নির্ধারান করা আছে। আমরা কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেই না। বরং গরিব অসহায় হলে আমরা সবার কাছ থেকে টাকা তুলে তাকে আমাদের এ্যাম্বুলেন্সে করে অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। কিন্ত এখানে উল্টো আমাদের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ভিত্তিহীন একটি সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। তাছাড়া আমাদের কাছে সংবাদ প্রচারের আগে একবার জানতেও চায়নি বিষয়টি কি? তাই উক্ত অভিযোগ ও ভিত্তিহীন একটি সংবাদ প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মাদারীপুর বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স সমিতির সভাপতি মো. ফরহাদ তালুকদার জানান, সংবাদ প্রচারের আগে অবশ্যই আমাদের সাথে যোগাযোগ করা উচিত ছিল কিন্ত সেটা তারা করে নাই। তাই উক্ত সংবাদ ও মিথ্যা অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

মাদারীপুর সিভিল সার্জন অফিসের সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ড. মো. খলিলুলজ্জামান জানান, একজন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেয়ার জন্য অবশ্যই এ্যাম্বুলেন্সে নেয়া উচিত। এ্যাম্বুলেন্সে একজন রোগীর জন্য সকল প্রকার সরঞ্জাম থাকে। কিন্ত অন্য কোন গাড়ীতে সেটা থাকে না।

আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর