১১, ডিসেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ২ রবিউস সানি ১৪৪০

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও উপস্থিতি কম

আপডেট: আগস্ট ৬, ২০১৮

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও উপস্থিতি কম

সপ্তাহ খানেকের অচলাবস্থার পর খুলেছে রাজধানীর স্কুল-কলেজগুলো। সোমবার (৬ আগস্ট) থেকে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশ কম। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনো শঙ্কা-ভীতি কাজ করছে। এছাড়া ২২ শ্রাবণ সকালে বৃষ্টি হওয়াও কম উপস্থিতির কারন বলে জানিয়েছেন অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম জানিয়েছেন, তার কলেজ বেশ ক’দিন ধরে বন্ধ ছিল ফলে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে তার কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল না। সোমবার থেকে কলেজ ফের খুলেছে। তবে সকালে বৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম।

এদিকে বনশ্রী আইডিয়াল স্কুলেও শিক্ষার্থী উপস্থিতি অনেক কম। সেখানকার একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গেল ক’দিনের আন্দোলনে সেখানকার অনেক শিক্ষার্থীই যোগ দেয়। যদিও কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। তারপরও নানাভাবে শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়েছে। সোমবার স্কুল খুললেও উপস্থিতি খুব একটা হয়নি। তার মতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা এখনো পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক মনে করছেন না হয়তো। সে কারনেই উপস্থিতি কম। ধীরে ধীরে উপস্থিতির হার স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন ওই শিক্ষক।

টানা শিক্ষার্থী আন্দোলনে রাজধানীর যেসব কলেজের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বে দিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ঢাকা সিটি কলেজ। কলেজটি শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই বড় জমায়েত করেছে। এসময় তাদের সঙ্গে আশপাশের অন্যান্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এসে যোগ দেয়। সোমবার এই কলেজেও কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসাইন জানিয়েছেন, সপ্তাহখানে অন্যান প্রতিষ্ঠানের মতো তাদের কলেজেও ক্লাস পরীক্ষা হয়নি। তবে আজ থেকে সব শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থী উপস্থিতি আশানুরুপ না হলেও ধীরে ধীরে বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি।

রামপুরা এলাকায় রোববারও শিক্ষার্থীদের শক্ত অবস্থান ছিলো। বেসরকারি ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা গতকাল মূল ভূমিকায় থাকলেও এর আগের দিনগুলোয় এ এলাকার স্কুলগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে অংশ নিতে দেখা গেছে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে। এখানকার রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বলেন, শুনেছি প্রথম দিকে আমার স্কুলের ছাত্রীরাও আন্দোলনে গিয়েছে। তবে পরে আর যোগ দেয়নি। এখন ক্লাস শুরু হয়েছে। ছাত্রীরাও ফিরতে শুরু করেছে।

শান্তিনগর এলাকায় আন্দোলনে যোগ দেয় রাজধানীর ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের শিক্ষার্থীদেরও সরব উপস্থিতি ছিল এ এলাকায়। তবে এ দুটি প্রতিষ্ঠানেই আজ থেকে পুরোদমে ক্লাস পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সেখানকার একাধিক সূত্র জানিয়েছে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে নানাধরনের ভীতি কাজ করছে। বিশেষ করে আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহনকারীরা পরিবারে চাপে আছেন। এছাড়া প্রশাসনিকভাবেও ঝামেলায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।

২৯ জুলাই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার পরদিন ৩০ জুলাই থেকে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এরপর রাজধানীসহ সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমদিকে এ আন্দোলন কেবল স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার (৫ আগস্ট) ঢাকা মহানগরের স্কুল কলেজ প্রধানদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় করনীয় কী সে বিষয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে পরামর্শ শোনার পাশাপাশি রাজপথ ছেড়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়ার সব দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ওপর দেন তিনি।