যশোরে কলেজ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উপবৃত্তির টাকা নিতে নথিপত্রের ভুল শংসোধোন নিশ্চিত করার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। এদিকে এলাকাবাসীর দাবি শিক্ষার্থীদের চেনা জানা স্থানীয় মানুষ অথবা কলেজ ডাটা হ্যাক হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও কলেজ শিক্ষক পরিচয় দিয়ে এ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানান, প্রতারনার শিকার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা
সরজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের কাছে উপবৃত্তির টাকার তথ্য ভুল হয়েছে বলে সংশোধন করার জন্যা আবেদন ও টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট অংকের টাকা দবি করছে প্রতারক চক্র। অতপর শিক্ষার্থীরা টাকা পাঠানোর পরেই সেই নাম্বারটি বন্ধ করে দিচ্ছে প্রতারক চক্র।
একই ভাবে প্রতারনার শিকার ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাশখোলা ইউনিয়নের আ:রাজ্জাকের স্ত্রী রীনা বেগম বার্তা বাজার কে ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, গত (৯ আগষ্ট) ফোন আসে নাভারন মহিলা কলেজ শিক্ষার্থী সুভাইয়া সাজ নেভীর কাছে । ফোনে বলা হয় ‘আমি ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ নাভারন থেকে বলছি তোমার উপবৃত্তির টাকা জমা হয়ে আছে তুমি টাকা তুলতে চাইলে ১৫/২০ মিনিটের মধ্যে ০১৮৭১৯০৪৯২৮ বিকাশ নম্বরে ২৪ হাজার ৮শ টাকা পাঠাও’।
কিছুক্ষন পরে ০১৮১৩২৭০৪৫৯ এই নাম্বার থেকে যশোর শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা পরিচয়ে কল দিয়ে জানায় যতদ্রুত সম্ভব টাকাটা বিকাশের মাধ্যেমে দিয়ে দিন তাহলে আপনার টাকা পেতে সুবিধা হবে। এভাবে ওই দিন স্থানীয় বিকাশ এজেন্ট ফরহাদ হোসেন টিটোর কাছ থেকে টাকা পাঠানো হয় টাকা। টাকা সেন্ড হওয়ার পরেই ওই নাম্বার দুটি বন্ধ করে দেয় প্রতারক চক্র। প্রতারক চক্রের ওই মোবাইল নাম্বারে বার্তা বাজার প্রতিনিধি কতৃক ফোন দিয়েও নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগি শিক্ষার্থী সুভাইয়া সাজ নেভী নাভারন ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের একাদাশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। একইভাবে অভিনব প্রতারনার শিকার হয়ে পথে বসতে বসেছে খরুসা গ্রামের কওসার আলীর মেয়ে নাভারন ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের একাদাশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন ভাবনা ও মির্জাপুর গ্রামের মো: নুর হোসেনের মেয়ে রিমি খাতুনের কাছেও ফোন করে প্রতারক চক্র। এমন প্রতারণার ফাদে পা দিয়েও অনেকে ভ্যান রিকশা বিক্রি করেও নিশ্ব হয়ে যেতে বসেছেন।
তবে এ বিষয় স্থানীয় সচেতন মহল বার্তা বাজার কে জানায়, একজন শিক্ষার্থীর পিতার নাম, মাতার নাম, রোল নং ও ঠিকানা প্রতারক চক্রের হাতে যায় কিভাবে? কলেজ সংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত আছে আছে কিনা সেটাও ক্ষতিয়ে দেখার দাবী জানান প্রসাশনের কাছে।
নির্বাসখোলা ইউনিয়নের বাবর আলী মোড়লের ছেলে মো: সাহিন কবির বার্তা বাজার কে বলেন, এই চক্রটি আমার ভাতিজির কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
নির্বাসখোলা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো: হাসান-উজ জামান সেলিম বার্তা বাজার কে বলেন, এই বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে কয়েক বছর আগেও আমাদের এখানের অনেকেই বিকাশে প্রতারনার শিকার হয়েছে মাঝে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও এখন আবার শুরু হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে প্রসাশনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এব্যপারে থানায় কোন অভিযোগ করেছেন কিনা জানতে চাইলে ভুক্তভোগি পরিবার বার্তা বাজার কে জানায়, আমরা ওই দিনই ঝিকরগাছা থানায় গিয়েছিলাম থানা থেকে বলা হয়েছে অভিযোগপত্রে প্রিন্সিপাল সাহেবের স্বাক্ষর করে নিয়ে আসেন।
নাভারন ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের অধ্যাক্ষ লায়লা আফরোজ বানু বলেন, আমি এই বিষটা শুনেছি আমাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রতারনার শিকার হয়েছে আর অভিভাবকেরা ও এ ক্ষেত্রে বোকার পরিচয় দিচ্ছেন তারা ওই সময়ে আমাদের জানালেও ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়।
এ বিষয়ে যশোরের ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক বার্তা বাজার কে বলেন, আমার কছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি । অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো কারণ স্টুডেন্টদের টাকা কেই প্রতারনা করে নিবে এটা ভালো কথা না।
ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:মাহবুল হক বার্তা বাজার কে বলেন, এ ব্যপারে আমার কাছে এখনো কোন ভুক্তভোগি আসেনি , আসলে আমার জায়গা থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা যায় ততটুকু করবো । তিনি আরো বলেন, বিকাশে প্রতারনা অহরহ ঘটছে তার পরেও মানুষ সচেতন হচ্ছেনা ,অবশ্যই এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহবান করেন তিনি।
এ্যান্টনি দাস(অপু)/বার্তা বাজার/শাহরিয়া হৃদয়