বাকিতে তেল না বেঁচায় ব্যবসায়ীর মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন করলো সন্ত্রাসীরা
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বাকিতে তেল করতে রাজি না হওয়ায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে মাথার খুলি তোলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হামলার গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া অবশেষে শুক্রবার (১৩ আগস্ট) দিনগত রাত ৩ টার দিকে মৃত্যুবরণ করেছেন।
নিহত সেলিমের বাড়ি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নতুন বাক্তারচর এলাকায়। প্বার্শবরতী মোল্লারহাট বাজারে তার জ্বালানি তেলের দোকান রয়েছে।
সেলিমের পরিবার জানায়, রানা রায়হান নামে এক ব্যক্তি কাছে সেলিম ডিজেল তেল বিক্রির ১১ হাজার টাকা পেতো। বকেয়া পরিশোধ না করে আরও মাস দুয়েক আগে ৬৩ হাজার টাকার তেল বাকিতে নেওয়ার জন্য আসে রানা রায়হান। তখন দোকানে ছিল সেলিমের ছোটভাই শরীফ ও ভগ্নিপতি নূর মোহাম্মদ। তারা তেল দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এতে ক্ষিপ্ত হয় রানা রায়হান। ৩ জুন রানা রায়হানের নেতৃত্বে আব্বাস, হাতিম, রবিউল্লাহ, জাহের আলী, শাহীন, সজীবসহ ১০/১২ জনের একটি দল লাঠিসোটা নিয়ে শরীফ ও নূর মোহাম্মদের উপর হামলা চালায়। এসময় সেলিম খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর করে মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মাথায় কয়েক দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় খুলির অনেকটা অংশ মাথা থেকে খুলে আলাদা করে রাখেন ডাক্তাররা। সেই খুলি এনে রাখা হয় সেলিমের বাড়ির ফ্রিজে।
ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, অপারেশন সফল হলে ফ্রিজে রাখা খুলির অংশ মাথায় প্রতিস্থাপন করা হবে; কিন্তু সেটি আর হলো না। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে তিনি মারা গেছেন। কথা বলার সময় আকলিমা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।
এ সময় সেলিমের স্ত্রী আকলিমা বলেন, বিনা অপরাধে ওরা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। তিন সন্তান (দুই মেয়ে ও এক ছেলে) নিয়ে এখন আমি কীভাবে চলব।
জানা গেছে, ঘটনার পর স্বামীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন আকলিমা। তার দায়ের করা মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করলেও পরে তারা আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। হত্যাচেষ্টা মামলাটির প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন জাজিরা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. কায়সার।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রথম কর্মকর্তা তদন্তে গুরুত্ব দেননি। পরে তারা এ ব্যাপারে মৌখিকভাবে থানার ওসিকে জানালে তিনি তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই নাজমুল আলম।
তদন্তভার পাওয়া নাজমুল আলম জানান, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। যেহেতু আহত ব্যক্তি মারা গেছেন, তাই এখন মামলাটি পরিণত হবে হত্যায়।
বার্তা বাজার/এসজে