রাজধানীতে গাড়ির নিচে ফেলে কিশোরকে হত্যা করে তার নামেই মামলা!

পুরান ঢাকায় গাড়ির নিচে ফেলে জয় নামের এক কিশোরকে হত্যা করে উল্টো তার নামেই মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ আগস্ট রাতে পুরান ঢাকার উর্দু রোডের জনতা ব্যাংকের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরদিন (৮ আগস্ট) চকবাজার থানায় নিহত জয়ের নামেই একটি ডাকাতির মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু জয়কে ধাক্কা দিয়ে গাড়ির নিচে ফেলে চাপা দেওয়ার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করছে পরিবার।

শনিবার (১৪ আগস্ট) ক্রাইম রিপোরটার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন খুন হওয়া কিশোর জয়ের বাবা শামসুদ্দিন জুম্মন ও পরিবারের সদস্যরা।

শামসুদ্দিন জুম্মন বলেন, পুলিশ উল্টা আমাদের হেনস্তা করছে। আমার ছেলেক হত্যা করে আমাদের স্বজনদের আসামি দিয়ে ডাকাতি মামলা দিয়েছে। সন্তানকেও হারিয়েছে, আবার হয়রানিও হচ্ছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই সত্য ঘটনার বিচার চাই।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি সামসুদ্দীন জুম্মন। ছেলে হারিয়ে আজ আপনাদের সামনে এসে ছেলে হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার চাইছি। আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহা-পুলিশ পরিদর্শকসহ (আইজিপি) সংশ্লিষ্টদের জরুরি হস্তক্ষেপের আকুল আবেদন করছি। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও থানা পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী মো. রিয়াজ উদ্দিন ও তার সহযোগী রাব্বি। দীর্ঘ দিনযাবত এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং মাদকব্যবসা করে আসছে। তাদের অপরাধমূলক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধা দিয়ে আসছিল আমার ছেলে জয়।

যার প্রেক্ষিতে রিয়াজের সাথে জয়ের সম্পর্ক খুবই খারাপ হয়েছিল। তাদের মধ্যে শত্রুতার সৃষ্টি হওয়ায় জয়ের ক্ষতি করার জন্য তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত ওই দুই সন্ত্রাসী। যার ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট রাত ৮টা ৪০ মিনিটে চকবাজার থানা এলাকার উর্দু রোডের জনতা ব্যাংকের সামনের পথ দিয়ে জয় যাওয়ার সময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা মো. রিয়াজ উদ্দিন ও রাব্বিসহ আরও ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী তার পথরোধ করে অতর্কিতভাবে হামলা চালায় এবং সন্ত্রাসীরা জয়কে মারধর করে রক্তাক্ত করে। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা জয়ের গলা চেপে ধরে জোড়পূর্বক চলন্ত গাড়ির দিকে ধাক্কা মারে। এতে জয়ের দেহ গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে নিচে পড়ে যায়। এ সময়ও সন্ত্রাসীরা তার ওপর অমানসিক নির্যাতন চালালে ঘটনাস্থলেই জয়ের মৃত্যু হয়। যার প্রমাণ সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজে রয়েছে।

জয়ের ওপর এমন হামলা ও নির্যাতনের দৃশ্য দূর থেকে দেখে মো. হাসিব হোসেন ওরফে আকিব নামের এক যুবক সন্ত্রাসীদের হাত থেকে জয়কে রক্ষা করতে দৌড়ে এসে নিচ থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করলে তাকেও সন্ত্রাসীরা ব্যাপক মারধর করে।

পরবর্তীতে রক্তাক্ত অবস্থায় জয়ের নিথর দেহ উদ্ধার করে হাসাপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে আড়াল করার অপচেষ্টা চালায় জড়িত সন্ত্রাসীরা। তারা চকবাজার থানার এক পুলিশ অফিসারের মাধ্যমে ঘটনার পরদিন অর্থাৎ একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে নিহত জয় ও তাকে উদ্ধার করতে যাওয়া মো. হাসিব হোসেন ওরফে আকিবসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় চকবাজার থানায় একটি মিথ্যা সাজানো ডাকাতি মামলা দায়ের করে।

এতে প্রমাণিত হয় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হত্যাকারীদের প্ররোচনায় সাজানো ডাকাতি মামলা দিয়ে নিহতের পরিবারসহ কয়েকটি পরিবারকে হয়রানি করছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে ও মিথ্যা মামলাকারী জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপির জরুরি হস্তক্ষেপের সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।

শামসুদ্দিন জুম্মনের করা অভিযোগের বিষয়ে চকবাজার থানার ইনস্পেকটর তদন্ত কবির উদ্দিন হাওলাদার কিছু বলেতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরামর্শ দেন ওসির সাথে কথা বলতে। কিন্তু আব্দুল কাইয়ুমকে একধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর