পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ভাঙাচোরা ও পলিথিন মোড়ানো অথবা অন্যের ঘরে দুঃখ কষ্টে বসবাস করতো- আব্দুল সামাদ শেখ, কফিল উদ্দীন, গমির। স্বপ্ন দেখতো একটি নিজের সুন্দর ঘরে থাকবেন তারা। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও উপায় ছিল না, স্বপ্ন স্বপ্নই থাকতো।
রোদ বৃষ্টিতে হাজারো কষ্টের মাঝে জীবন যাপন করতো তারা। ঝড় উঠলেই বাড়তো ভয়, শুধু তাই নয়, কখনো কাল বৈশাখীর ঝড়ে ভেঙে তছনছ হয়েছে তাদের ঘর বাড়ি। সবার সহযোগিতায় কোন মতে ঝুপড়ি ঘর মেরামত করে বসাবাস করে আসছিল।
এই ঝড় তুফানে প্রতিবছরে কেড়ে নেয় তাদের স্বপ্ন, ভেঙে দেয় আশা। সব হারিয়ে অনেকেই হয়েছিলেন নিঃস্ব। আবার অনেকের জায়গা থাকলেও ছিল না আশ্রয়স্থল। আশ্রয়হীন সেই মানুষরা খুঁজেছিল আশ্রয়। ঠিক সময়ে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সরকার। দিয়েছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে।
‘আশ্রয়ণের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় আশ্রয়ণ ১ম পর্যায়ে ১৪২ টি ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৩৫ টি মোট ২৭৭ টি ঘর বরাদ্দ আসে। এ আশ্রয়হীন পরিবার গুলো খুঁজে পেয়েছে তাদের স্বপ্নের নীড়।
ওই উপজেলা মাগুরা এলাকার গৃহহীন আব্দুল সামাদ শেখ বলেন, নিজের কোন ঘর বাড়ি ছিল না। আমি অন্যের জমিতে বাড়ি ঘর করে ছিলাম। এখন সরকার আমাকে একটি ঘর দিয়েছে। আমি সরকারের কাছে চির কৃতজ্ঞ।
একই উপজেলার ৫ নং বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের গড়াগছ গ্রামের কফিল উদ্দীন জানান, আমি দীর্ঘ দিন থেকে নিজের ৩ শতক জমিতে পলিথিন মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে আসতেছিলাম। কেউ আমাকে সহযোগিতা করে নাই। স্থানীয় কিছু সাংবাদিকের সহযোগিতায় সরকার আমাকে একটি ঘর দিয়েছে। আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি আরো বলেন, এখন আমি অনেক সুখে আছি। বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের শিলাইকুঠি গ্রামের গমির উদ্দীর জানান, আমার কোন বউ বাচ্চা নেই, আমি প্রতিবন্ধী মানুষ । আমার কোন থাকার মত কোন ঘর ছিল না। সরকার আমাকে একটি পাকা ঘর দিয়েছে।
তেঁতুলিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, সরকার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশে কোন লোক গৃহহীন থাকবে না। সেটির অংশ হিসেবে এই উপজেলায় এ প্রকল্পে আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। অসহায় মানুষজন এখন খুঁজে পাচ্ছে তাদের আশ্রয়, একটি ঠিকানা। সেই সঙ্গে সরকারের এই প্রকল্পটি ব্যাপক সাড়াও ফেলেছ।
এস, এম আল-আমিন/বার্তা বাজার/এসবি