আখাউড়ায় প্রতারণা করে প্রতিবন্ধির ভাতা তুলছেন অজ্ঞাত যুবক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কৌশলে এক প্রতিবন্ধি নারীর ভাতা বইয়ে মোবাইল নম্বর দিয়ে টাকা তুলে নিচ্ছেন সুহেল নামে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবক। গত ৯ মাসের ভাতার ৬ হাজার ৭৫০টাকা সুহেলের মোবাইল নম্বরে গিয়েছে।

অভিযুক্ত সুহেল আখাউড়া পৌরসভার মসজিদ পাড়ার এলাকায় থাকতো বলে জানা যায়। এদিকে মাসের পর মাস ভাতা না পেয়ে বৃদ্ধা মহিলা কয়েক বার সমাজ সেবা অফিসে গিয়েও দেখা পাচ্ছেন না তার। প্রতারণার ওই ঘটনা ঘটেছে আখাউড়া পৌরশহরের রাধানগরের কলেজপাড়ার প্রতিবন্ধি রানী বেগম (৬৫) এর সঙ্গে। তিনি মৃত আবুল কাসেমের স্ত্রী।

প্রতিবন্ধি রানী বেগম (৬৫) বলেন, ২০২০ সালের জুন মাসে আমি প্রতিবন্ধি ভাতাভোগী হিসেবে অন্তুর্ভূক্ত হই। আখাউড়া সোনালী ব্যাংক থেকে ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই কিস্তিতে ১১ হাজার ২৫০ টাকা উত্তোলন করি। পরে সমাজ সেবা অফিস থেকে খবর পাঠায় ব্যাংকের মাধ্যমে আর টাকা দেওয়া হবে না, মোবাইল নম্বর দেওয়ার জন্য। মোবাইলে টাকা আসবে। আমি মোবাইল নম্বর দেওয়ার জন্য গত ৩/৪ মাস আগে সমাজ সেবা অফিসে যাই। অফিসে তখন খুব ভীড় ছিল। এসময় অফিসের বাড়ান্দায় দাঁড়ানো এক যুবক নিজেকে সমাজ সেবা অফিসে চাকরী করে পরিচয় দিয়ে অফিসে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করে। মোবাইল নম্বর দিতে এসেছি বলার পর সে আমার ভাতা বইটি নিয়ে যায়।

কিচ্ছুক্ষণ পরে এসে একটি কাগজে নাম ও মোবাইল নম্বর লিখে দিয়ে বলে টাকা আসলে খবর দিবে। আমি তখন বলেছিলাম বাড়িওয়ালার মোবাইল নম্বর দিমু। কিন্তু ওই লোক আমার কথা না শুনে বলে বাড়িওয়ালার নম্বর দিবা কেন। আমার কাছ থেকে এসে টাকা নিয়ে যেও। এরপর থেকে আমি আর কোন টাকা পাইনি। আমি সুহেলের খোঁজে অফিসে গিয়ে জানতে পারি সুহেল নামে কেউ ওই অফিসের চাকরি করে না।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে-মেয়ে নাই, স্বামী নাই, বাড়ি নাই আমার মতন মাইনষের টাকা মানুষ কীভাবে মাইরা খায়।

এ ব্যপারে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে সুহেল বলেন, ৭/৮ বছর আগে আখাউড়ায় থাকতেন এখন ঢাকায় থাকেন বলে জানান। প্রতিবন্ধির বইয়ে আমার নাম্বার কিভাবে গিয়েছি আমি বলতে পারি না। তবে তার নম্বরে নগদ একাউন্টে ২ হাজার ২৫০ টাকা গিয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

আখাউড়া উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের অফিস সহায়ক মোঃ ইউনুছ মিয়া বলেন, প্রতিবন্ধি রাণী বেগমের বইয়ে দেওয়া মোবাইল নম্বরে নগদ একাউন্টে ২০২০ সনের অক্টোবর মাস থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত ৯ মাসের ৬ হাজার ৭৫০ টাকা গিয়েছে।

আখাউড়া উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আফসানা পারভীন বলেন, যদি কোনো কারণে কোন ভাতাভোগীর টাকা অন্যের মোবাইল নম্বরে গিয়ে থাকে তাহলে ভাতাভোগী অফিসে এসে আমাদেরকে জানালে আমরা তা সংশোধন করে দেব এবং অন্য নম্বরে চলে যাওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেব।

হাসান মাহমুদ পারভেজ/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর