নিলামে বিক্রি হয়ে গেল ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা

নিলামে বিক্রি হয়ে গেল ফেঞ্চুগঞ্জের ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড (এনজিএফএফএল)। বুধবার (১১ আগস্ট) নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাইদুর রহমান ২১১ কোটি ৪০ লাখ ২ হাজার টাকায় পুরাতন এই সার কারখানাটি স্ক্রেপ হিসেবে কিনে নেয়।

এদিন বেলা আড়াইটায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষ থেকে মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) সেরনিয়াবাত রেজাউল বারী সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেসার্স সাইদুর রহমানের নাম ঘোষণা করেন।

নিলামে অংশগ্রহণকারীদের সামনে বাঁছাইকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন এনজিএফএফএর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান এনজিএফএফএর জিএম (প্রশাসন) এ টি এম বাকী।

নিলামে অংশ নেওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর হেঁকেছিল বিএন করপোরেশন ২০৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা, তৃতীয় সর্বোচ্চ হয় খায়রুল অটো ফ্লাইঅভার মিল ১৫২ কোটি টাকা।

এছাড়া দরপত্রে অংশগ্রহণকারী অন্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেন্ট্রাল বাংলা কোরিয়ার অ্যান্ড পার্সেল লিমিডেট ১৪৯ কোটি টাকা, কমার্সিয়াল নেটওয়ার্ক নিউজ বাংলাদেশ ১৪২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, রেপিড সোর্স ১৩২ লাখ ৫২ লাখ ৯০০ টাকা, মেসার্স আল মাসুম ট্রেডার্স ১৩১ কোটি টাকা, ডিডি ফিসারিজ ১২১ কোটি ২১ লাখ ২১ টাকা, মেসার্স নিজামুল আলম ১১৯ কোটি ৮৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, আলম ল্যান্ড ফাউন্ডেশন প্রাইভেট ১১২ কোটি টাকা, নুর আলম অ্যান্ড ব্রাদার্স ১১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, বিনসেন কনসালটেন্সি ১০৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা, এসএস স্টিল লিমিটেড ১০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং ফয়ছল অ্যান্ড কোম্পানি সামিট অ্যাসোসিয়েট ৬৪ কোটি টাকা দরপত্রে উল্লেখ করেন।

এর আগে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর (এনজিএফএফএল) বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। ওই সময় মেসার্স আতাউল্লাহ গ্রুপ সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১০৩ কোটি ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে কারখানাটি স্ক্রেপ হিসাবে কিনে নেন। কিন্তু নিয়মমাফিক টাকা জমা না করায় এটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়েও টাকা জমা দিতে না পারেনি দরদাতা প্রতিষ্ঠানটি। অবশেষে পুনরায় নিলামের সিদ্ধান্ত নেয় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিসিআইসি।

বিসিআইসির অধীনস্থ ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানার মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) সেরনিয়াবাত রেজাউল বারী ২৫ মে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুকের পক্ষে দরপত্র আহ্বান করেন। পরদিন ২৬মে দরপত্র আহ্বান করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। কিন্তু করোনার কারণে পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ৪ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১৫ জুলাই অফিস চলাকালীন পর্যন্ত দরপত্র বিক্রি এবং জমাদান ৫ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টায় নির্ধারণ হয়। এছাড়া দরপত্র খোলা ৫ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১৮ জুলাই দুপুর ২টায় নির্ধারণ করা হয়।

পরে করোনার কারণে আরও এক দফা পিছিয়ে ১৫ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১০ আগস্ট অফিস চলাকালে ও দরপত্র গ্রহণ/জমাদান ১৮ জুলাইয়ের বদলে ১১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। দুপুর আড়াইটায় টেন্ডার বাক্স খোলা হয়। বাচাই শেষে নাম আসে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাইদুর রহমানের।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর