রাস্তার পাশে চা বিক্রি করছে মা ছেলে

রাস্তার পাশে চা বিক্রি করে চলছে সংসার। ছবি: বার্তা বাজার

করোনায় কর্মহীন স্বামী মো. শহিদ(৪৫)। সংসারে অভাব-অনটন। ঘরে নেই খাবার। দুই সন্তান নিয়ে বিপাকে পরেছেন মা মোসা. রাহিমা বেগম (৩৫)। নিরুপায় হয়ে রাস্তার পাশে কালভার্টের উপরে চায়ের দোকান নিয়ে বসেছেন রাহিমা।

দোকানের চারপাশে নেই বেড়া। উপরে পলিথিনের ছাউনী। ১১ বছর বয়সী ছেলে মো. সোহান মাকে সাহায্য করেন। সোহান তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। তাঁর দুই বছর বয়সী আরেক ছোট ভাই রয়েছে। নাম মো. আলিফ।

বাউফল পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পূর্বপাশে নতুন রাস্তার উত্তর মাথায় আবাসিক এলাকায় এ দোকান নিয়ে বসেছে ওই মা-ছেলে। তারা পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মো.শহিদ ঢাকাতে শ্রমিকের কাজ করত। করোনার কারনে তাও বন্ধ হয়ে যায়। পরে পৌরশহরে ভ্যানহগাড়িতে করে সবজি বিক্রি করত। পুঁজি না থাকায় ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। দেখা দেয় সংকট। উপায়ন্তর না পেয়ে ধার করা ৭শ টাকা পুঁজি নিয়ে চা বেঁচতে বসেন রাহিমা বেগম।

দোকনে মালমাল বলতে রয়েছে চায়ের কাপ, ফ্লাক্স ও কিছু বিস্কুট। এতে ছেলে সোহান তাকে সাহায্য করছেন। গৃহস্থলী কাজ করে যেটুক সময় পান সেই সময় ছেলের পাশে বসে থাকেন।

দৈনিক ১৫০-২০০ টাকা বিক্রি হয়। তাতে ৫০-৭০ টাকা লাভ থাকে। তাই দিয়ে কোন ভাবে চলে সংসার। অপরদিকে গত ১০দিনে আগে স্বামী মো.শহিদ কাজের খোঁজে ঢাকা গেছেন। এখন পর্যন্ত কোন কাজ-কর্ম পায়নি।

রাহিমা বেগম জানান,‘ করোনার প্রথম বছর সরকারের দুই দফায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা পেয়েছি। এবছর দুই ঈদে ১০ কেজি চাল ও ৫শ টাকা পেয়েছি। এর বাহিরে কোন সরকারি সহায়তা পাইনি। স্বামীর কাজ-কাম নেই। নিরুপায় হয়ে ধার-দেনা করে ৭শ টাকা নিয়ে চায়ের দোকান নিয়ে বসেছি।

আক্ষেপের সুরে রাহিমা বেগম বলেন,‘ সরকার কত মানুষকে সহায়তা দেয়। আমাদের যদি শহরের মধ্যে একটা চায়ের দোকানের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে দুই সন্তান নিয়ে চলতে পারতাম।

মো. সোহাগ নামের এক পথচারী বলেন,‘ এটা আবাসিক এলাকা। এই পথে তেমন পথচারীর আনাগোনা নেই। যার কারনে তাদের তেমন বেচা-কেনাও হয়না।

এ বিষয়টি বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাকির হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন,‘ খোঁজ নিয়ে তাকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে।

বার্তা বাজার/টি

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *