পরীমনিকে গ্রেফতারের তথ্য ৪ মাস আগেই জেনেছিলেন চয়নিকা!

পরীমনি ও চয়নিকা চৌধুরী।

গত ৪ আগস্ট (বুধবার) ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ তাকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

পরে এ মামলায় ৪ দিনের রিমান্ড শেষে আরও দুইদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় পরীমনিকে। এদিকে পরীমনিকে গ্রেফতারের তথ্য চার মাস আগেই জানতে পেরেছিলেন তার ‘মা’ হিসেবে পরিচিত নাট্যনির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। দেশের প্রথমসারির একটি গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, পরীমনিকে গ্রেফতারের চার মাস আগে একটি ফোন নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে চয়নিকা চৌধুরীর ফোনে খুদে বার্তাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আসে। সেখানে বলা হয়, পরীমনির সামনে অনেক বড় বিপদ। তাকে গ্রেফতারের বিষয়ে মিটিং চলছে,

অচেনা নম্বর থেকে এমন বার্তা পেয়ে বিচলিত হয়ে পড়েন চয়নিকা। পরে তিনি খুদে বার্তাটি পরীমনির ফোনে ফরওয়ার্ড করেন। এরপর নড়েচড়ে বসেন পরীমনি। শেষ পর্যন্ত নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে নতুন নম্বর চালু করেন তিনি।

নির্ভরযোগ্য একটি জানায়, পরীমনিকে গ্রেফতারের পেছনে রয়েছে তার উশৃঙ্খল জীবন। সিনেমার পাশাপাশি তিনি প্রভাবশালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে বেশি পছন্দ করতেন। রাজধানীর বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেলে প্রায় প্রতিদিনই গভীর রাত পর্যন্ত পার্টি শেষে মদ্যপ অবস্থায় বের হতেন তিনি। এই নায়িকা নিয়মিত ধূমপান করেন। তার বাসায় বিদেশি সিগারেট ও মদের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে।

জানা গেছে, দেশের সব অভিজাত ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে এ নায়িকার বেশ ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাদের রেফারেন্সে তিনি বিভিন্ন ক্লাবে যাতায়াত করতেন। তারকা হোটেলের বারেও তার যাতায়াতের রেকর্ড রয়েছে। এছাড়াও তার ঘনিষ্ঠদের তালিকায় আছেন অনেক প্রভাবশালীর নাম। যাদের কেউ কেউ পরীমনিকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশেও ঘুরতে যান।

পরীমনির সঙ্গে প্রভাবশালী অনেকের ঘনিষ্ঠতা ছিল অনেকটা ওপেন সিক্রেট। তাদের অনেকের দাম্পত্য জীবন বিষিয়ে উঠেছিল পরীমনির কারণে। এ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহলে অভিযোগ করেন দুজন প্রভাবশালীর স্ত্রী।

সম্প্রতি বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন পরীমনি। তার অভিযোগের ভিত্তিতে বোট ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ গ্রেফতার হলে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। এদিকে নাসির উদ্দিন জামিনে মুক্ত হন এবং বোট ক্লাবে সেই রাতে কি হয়েছিল সেটা সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের কাছে তুলে ধরেন। এভাবেই তৈরি হয় পরীমনিকে গ্রেফতারের প্লট।

সূত্র মতে, পরীমনিকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্তটি অনেক আগেই নেয়া হয়েছিল। তবে নানা কারণে বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছিল। তবে বোট ক্লাবের ঘটনা আগুনে ঘি ঢেলে দেয়ার ব্যবস্থা করে।

এদিকে পরীমনির বিষয়ে সাবধান করে খুদে বার্তা পাঠানো মোবাইল নম্বরটি নিয়ে তদন্ত চলছে। সেই নম্বরটি রবি কোম্পানির। জনৈক হালিমা আক্তারের নামে নিবন্ধিত। জাতীয় পরিচয়পত্রে হালিমার মায়ের নাম ফাতেমা, বাবা হাবিজ মিয়া এবং স্বামীর নাম আক্তার হোসেন। পেশা গৃহিণী। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পশ্চিম পিপইয়াকান্দি গ্রামে তার বাড়ি।

গোয়েন্দাদের ধারণা, হয়তো নম্বরটি ভুয়া এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত। অথবা ব্যবহারকারী সংশ্লিষ্ট কারও বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। এসএমএসদাতা নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখতে গৃহকর্মীর নম্বর ব্যবহার করেছেন।

জানা গেছে, পরীমনি ও মডেল পিয়াসার ঘটনার অন্তত তিনজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: আরটিভি

বার্তা বাজার/নব

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *