সড়ক দুর্ঘটনায় চোখের সামনেই বাবা, মায়ের মৃত্যুতে নির্বাক শিশু আকলিমা
দেড় বছরের শিশু আকলিমা খাতুন। সড়ক দুর্ঘটনায় চোখের সামনেই বাবা–মাকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে গেছে ছোট্ট শিশুটি। আহত হয়েছে নিজেও।
আকলিমা চাচাদের কোলে চেপে শুধু দুচোখে খুঁজে ফিরে তার বাবা-মাকে। শিশুটি হয়তো জানে না কখনো তার কাছে আর ফিরবে না তার বাবা-মা।
রোববার (৮ আগস্ট) দুপুরে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার কাছিকাটা টোলপ্লাজার পাশে পিকআপ ভ্যান উল্টে ৬ জনের মৃত্যু ঘটনা ঘটে। সে ঘটনায় মারা যায় আকলিমার বাবা-মাসহ একই এলাকার আরও একজন।
আকলিমার মেজ চাচা জাপান আলি জানান, ছোট্ট আকলিমার বাবা আফফান ফেরি করে খাজা বিক্রি করতেন ঢাকায়। লকডাউনের বিধিনিষেধ শুরুর পর রোজগার বন্ধ হয়ে যায় তাঁর।
দেড় বছরের কন্যাশিশু আর স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরে যান তিনি। তবে বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণায় আর বসে থাকতে পারেননি। আগেভাগেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
ওই দিনের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিনজনের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকায়। পরে ঘটনার দিন রাতে নিজ গ্রামে নিহতদের মরদেহ পৌঁছায়। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় পি এস এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা শেষে তাঁদের মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহতরা হলেন পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের শামসের মোল্লার ছেলে আফফান মোল্লা (৫২), নিহত আফফানের স্ত্রী আরিফা খাতুন (২৪) এবং একই গ্রামের মৃত নাহারুল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫)। তারা পাঁচ বছর ধরে ঢাকায় বাস করছেন। সেখানে আফফান ও শহিদুল তিলের খাজা বিক্রি করতেন।
কুষ্টিয়া-১ আসনের (দৌলতপুর) সাংসদ আ ক ম সরোয়ার জাহান বাদশা পুত্র শাইখ আল জাহান শুভ্র বলেন, একই দিনে স্বামী-স্ত্রীসহ একই পাড়ার তিনজন মারা গেলেন। পুরো এলাকা আজ নিস্তব্ধ।
আমি কয়েকবার নিহতের বাড়িতে গিয়েছি। তাঁদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। আপাতত দাফন ও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া দেওয়ার জন্য নিহতের পরিবারকে অর্থ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে নিহতদের পরিবারের পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ।
দুর্ঘটনায় বিষয়ে ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক কবিরাজ বলেন, আফফান ও শহিদুল ফেরি করে তিলের খাজা বিক্রি করতেন।
রোববার সকাল ৯টার দিকে তাঁরা ব্যাটারিচালিত ভ্যানে হোসেনাবাদে যান। সেখান থেকে মাইক্রোবাসে যান ভেড়ামারায়। পরে পিকআপ ভ্যানে যান নাটোরের বনপাড়ায়। তারপর আবারও পিকআপ ভ্যানে করে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে গুরুদাসপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু হয়।
দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দীন বলেন, এ বিষয়ে কিছুই জানা নেই আমার।
এস. এম. সরোয়ার পারভেজ/বার্তা বাজার/টি