ফেনী জেনারেল হাসপাতালের কোভিড ইউনিট ১৫০ শয্যায় উন্নীত

বৈশ্বিক মহামারী কোভিডে আক্রান্ত ও উপসর্গ বিদ্যমান রোগীদের চিকিৎসায় ফেনীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ৩০ শয্যাকে কোভিডে সেন্টার বা আইসোলিশন ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা হয়। গতবছরের জুন মাস থেকে এই ইউনিটে রোগী ভর্তি নেওয়া শুরু হয়।

এর আগে জেলায় প্রথম কোভিডে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ফেনী ট্রমা সেন্টারকে আইসোলিশন ইউনিট করে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও পরবর্তীতে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কোভিডে রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চালু করা হয়।

গত বছরের জুন থেকে ৩০ শয্যা কোভিডে ইউনিটে রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হলেও প্রথম দিকে রোগীদের খুব একটা চাপ দেখা যায়নি। তবে চলতি বছরে ফেনী অনেকটা করোনায় ঝুকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর থেকে জেলায় কোভিডে সংক্রমণের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে।

গত জুন থেকে চলতি আগষ্ট মাস পর্যন্ত ফেনীতে কোভিডে সংক্রমণের সংখ্যা ও আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ। হিসাব কষে দেখা যায় জেলায় কোভিডে শনাক্তের পর থেকে এই পর্যন্ত কোভিডে সর্বমোট আক্রান্ত ও মৃতদের মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশই আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করেছেন চলতি বছরের জুন থেকে আগষ্ট মাসে। তন্মধ্যে গত জুলাই মাসেই ফেনী জেনারেল হাসপাতালে কোভিডে আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৮২ জনের, আর আগষ্টে এরইমধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে।

রোগীদের চাপ সামাল দিয়ে উঠতে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের কোভিডে ইউনিট পরিচালনাকারীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে। ৩০ শয্যার বিপরীতে কোভিডে ইউনিটে রোগীর সংখ্যা অনেক ক্ষেত্রে চার-পাঁচ গুণ বেড়ে ১৫০ জন পর্যন্ত ঠেকেছে। অধিকাংশ রোগীর জায়গা হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে। এক্ষেত্রে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাওয়ার পাশাপাশি স্বল্প ডাক্তার-নার্স, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ না থাকা, আইসিইউর সীমাবদ্ধতা সহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদির সংকটের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম কিছুটা ব্যহত হয়।

এমতাবস্থায় জেলার কোভিডে রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম বেগবান করতে এরইমধ্যে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ১৫০ শয্যাকেই কোভিডে রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব ডা. বিলকিস বেগম সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর মাধ্যমে জেনারেল হাসপাতালের ১৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনকে পুরোদমে কোভিডে ডেডিকেটেড ইউনিট হিসেবে পরিচালনা করা হবে। একইসাথে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয়ভাবে নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এখন থেকে ২৫০ শয্যার সবকটিতে চাহিদানুযায়ী রোগীরা অক্সিজেন সেবা পাবে।
ইউনিসেফের অর্থায়নে চালু করা হয়েছে ৬ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন অক্সিজেন ট্যাংক।

পাশাপাশি আইসিইউ ১০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে আরও ১০ শয্যা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: ইকবাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, কোভিডে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের নতুন ভবনকে আইসোলেশন ইউনিট করার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রনালয় এর অনুমোদন দেন। বর্তমানে ৩০শয্যার আইসোলেশনে দুই শিফটে ৮ জন কনসালটেন্ট, ১০ জন মেডিকেল অফিসার ও ২৪ জন নার্স দায়িত্ব পালন করছেন৷ তবে ১৫০ শয্যার কোভিডে ইউনিট চালু করতে গেলে আরও পর্যাপ্ত জনবল প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল খায়ের মিয়াজী জানান, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার আগ থেকেই আমরা ৩০ শয্যার আইসোলেশনে অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। সোমবার স্বাস্থ বিভাগ থেকে এই ইউনিটকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। শয্যা মোতাবেক জনবল ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে সেবার মান আরো বাড়বে।

কামরুল হাসান ছিদ্দিকি/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর