সুনামগঞ্জে টিকা গ্রহনে বেড়েছে আগ্রহ, টেস্টে অনিহা
বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সারাদেশে গণহারে করোনার টিকা প্রদানের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। ফলে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারী ভারত থেকে আমদানিকৃত অক্সফোর্ডের এস্ট্রেজেনেকা (কোভিশিল্ড) ভ্যাকসিনের মাধ্যমে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ভ্যাকসিন কার্যক্রম।
তবে আমদানি জটিলতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে ভ্যাকসিন কার্যক্রম। এরপর বিভিন্ন দেশ টিকা আমদানি শুরু হলে ১২ জুলাই থেকে সারাদেশে পুনরায় চালু হয় ভ্যাকসিন কার্যক্রম। সর্বশেষ গেলো শনিবারে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণটিকাদান’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
তবে শুরুর দিকে নানা ভয় আর শঙ্কায় টিকা গ্রহনে অনিহা ছিল জনমনে। তার থেকে বাদ যাননি দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মানুষও। তবে সমীকরণ এবার তার ঠিক উল্টো। উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলার সাংবাদিকবৃন্দ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবৃন্দ সচেতনামুলক প্রচার ও তাদের টিকা গ্রহনের ফলে শঙ্কা আর অনিহা কাটতে শুরু করেছে এই উপজেলার মানুষের।
গণহারে ভ্যাকসিন গ্রহনে মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করতে উপজেলার হাট-বাজারে, গ্রাম-মহল্লায় করা হয় সচেতনামুলক মাইকিং।এতে করোনার টিকা গ্রহনে ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে সব বয়সের মানুষের। টিকা নিতে দৌড়ঝাঁপ করছেন নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে।
ফলে গেল শনিবার ‘গণটিকাদান’ কার্যক্রমের উদ্বোধনের দিনেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে উৎসব-উল্লাসে টিকা নেন ৪ হাজার ৮’শ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এ পর্যন্ত উপজেলায় টিকা গ্রহণ করেছেন ১৪ হাজার ৯ জন। এরমধ্যে টিকার প্রথম ডোজ গ্রহনকারীর সংখ্যা ১১ হাজার ৭’শ ৫৯ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্নকারীর সংখ্যা ২ হাজার ২’শ ৫০ জন। এছাড়া কয়েক হাজার মানুষ ইতিমধ্যে সুরক্ষা অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা গ্রহনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে করোনা টিকা গ্রহন করেছেন এমন কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, করোনা মহামারি থেকে রক্ষা পেতে করোনা টিকা গ্রহন কতটা জরুরী আমরা সেটা বুঝতে পেরেই টিকা গ্রহন করেছি। টিকা গ্রহনের পর আমাদের কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। সুস্থ্য স্বাভাবিক থাকতে এবং অন্যকে সুস্থ্য রাখতে অবশ্যই প্রত্যেকের উচিৎ করোনার টিকা গ্রহন করা।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, শুরুর দিকে করোনার টিকাগ্রহনে অনিহা থাকলেও টিকা গ্রহনের জন্য উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকার নির্ধারিত বয়সের সব মানুষই রেজিষ্ট্রেশন করছেন। ভ্যাকসিন নিতে মানুষের মাঝে এখন ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে। নিজকে, পরিবারকে এবং দেশকে করোনা মহামারী থেকে রক্ষা করতে প্রত্যেকের উচিৎ শীঘ্রই টিকা গ্রহণ করা।
তবে করোনার টিকা গ্রহনে জনমনে এমন আগ্রহ বাড়লেও করোনার টেস্টে ঠিক উল্টো চিত্র। উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে করোনার উপসর্গ (জ্বর,সর্দি, কাশি, ঘ্রাণশক্তি হ্রাস) থাকলেও কোভিড-১৯ পরীক্ষায় বিন্দুমাত্র নেই। অনেকে আবার ডাক্তারের শরনাপন্ন হওয়ার বীপরীতে এড়িয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে নিচ্ছেন ঔষধ।
করোনা টেস্টে এমন অনাগ্রহ একেবারেই অনুচিত মনে করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, করোনার উপসর্গ থাকলে অবশ্যই করোনার পরীক্ষা করা উচিৎ। এতে নিজের সাথে পরিবারের মানুষেরও ঝুঁকি কমবে। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধরা মারাত্নক মৃত্যুঝুঁকিতে থাকবেন। এক্ষেত্রে করোনা উপসর্গ দেখা দিলেই বাধ্যতামুলক করোনা টেস্টের আহ্বান করেন তিনি।
নোহান আরেফিন নেওয়াজ/বার্তা বাজার/টি