নিখোঁজ অধ্যক্ষের ৫ টুকরা দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে র‍্যাব

সাভারের আশুলিয়া থানাধীন ইয়ারপুর ইউনিয়নের ‘সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ’। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সুনামের সাথে এই এলাকায় শিক্ষা সেবা প্রদান করে আসছিলো। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মন অত্যন্ত দক্ষ একজন শিক্ষক এবং সজ্জন মানুষ হিসেবে সকলের নিকট পরিচিত। গত ১৩ জুলাই থেকে হঠাৎ করে এই মানুষটি নিখোঁজ হয়ে যান।

সোমবার (৯ আগষ্ট) দুপুরে র‍্যাব এর অভিযানে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ এর ভিতরে মাটিতে পুঁতে রাখা নিরীহ এই শিক্ষকের মাথা বিহীন ৫ টুকরা দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। সাভার ও আশুলিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে র‍্যাব সদর দপ্তর এবং র‍্যাব-৪ এর সম্মিলিত আভিযানিক দল নিহত অধ্যক্ষের দেহাবশেষ উদ্ধার করে।

এর আগে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত রবিউল, মোতালেব এবং বাদশাহ নামের তিনজনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। অংশীদারী ভিত্তিতে রবিউল, মোতালেব ও নিহত অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির মালিক ছিলে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

মরদেহ উদ্ধারের পর র‍্যাব সদর দপ্তরের মিডিয়া উইং কমান্ডার মঈন খান সাংবাদিকদের ‘ব্রিফ’ করেন।

এসময় তিনি বলেন, গত ১৩ জুলাই সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মন নিখোঁজ হন। এসময় তার পরিবার-পরিজন বিভিন্ন জায়গায় তার খোঁজখবর করে না পেয়ে অধ্যক্ষের ছোট ভাই রিপন চন্দ্র বর্মন গত ২২ জুলাই স্থানীয় থানায় এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এই ঘটনাটি বিভিন্ন সাংবাদিকদের মাধ্যমে মিডিয়ায় এলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জিডি পরবর্তী র‍্যাব-৪ এর ইন্টেলিজেন্স উইং নিখোঁজ অধ্যক্ষের খোঁজে বিভিন্ন তদন্ত ও ছায়া-তদন্ত চলমান রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৯ আগষ্ট) মধ্যরাতে র‍্যাব নিহত অধ্যক্ষের দুইজন পার্টনারের একজন রবিউলকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। রবিউল ঘটনা পরবর্তী বিভিন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলো। সোমবার মধ্যরাতে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল জানায়, গত ১৩ জুলাই রবিউল ও তার ভাগিনা বাদশাহ দু’জনে মিলে অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মনকে হত্যা করে।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা। ছবি- বার্তা বাজার

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে মঈন খান আরও জানান, রবিউলের ভাষ্যমতে এই স্কুলে করোনাকালে রাতে কোচিং চলতো। গত ১৩ জুলাই রাত ১১ টায় স্কুলে কোচিং শেষে অধ্যক্ষকে রবিউল ও বাদশাহ ১০৬ নাম্বার কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে বাদশাহ অধ্যক্ষের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। পরে রবিউল ও বাদশাহ মিলে অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মনের দেহ ৬টি টুকরা করে ও স্কুল কম্পাউন্ডের ভিতরে মাটিতে পুঁতে রাখে। পরে সিমেন্ট ও বালি দিয়ে জায়গাটি প্লাস্টার করে দেবে এই উদ্দেশ্যে খুনি চক্র বালি ও সিমেন্টও নিয়ে এসেছিলো। এই দেহের ৬ টুকরার ভিতরে আজ আমরা ৫টি টুকরা উদ্ধার করেছি। তবে দেহের মাথা আরেকটি পলিথিনে ভরে রাজধানীর আশকোনা এলাকায় একটি ডোবার ভিতরে ফেলে দেয় খুনিরা। সেখানেও র‍্যাবের আরেকটি দল মাথা উদ্ধারে কাজ করছে।

এসময় র‍্যাব সদর দপ্তরের মিডিয়া উইং কমান্ডার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা আরও জানতে পারি মিন্টু চন্দ্র বর্মন একজন দক্ষ শিক্ষক ছিলেন। তার সাথে এই স্কুলের বাকি দুই পার্টনার রবিউল ও মোতালেবের মনোমালিন্য ছিলো। এছাড়া নিহত অধ্যক্ষ নিজে ভালো শিক্ষক হবার কারণে কোচিং করাতেন এবং প্রচুর শিক্ষার্থী তার কাছে পড়তে আসতো। এতে করে তার বাকি দুই পার্টনারের ভিতরে হিংসার সৃষ্টি হয়। এসব কারণেই তারা অধ্যক্ষকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত ৭ জুলাই, ২০২১ তারিখে এই স্কুলের ভিতরেই খুনিরা হত্যার পরিকল্পনা করে। সেসময় গ্রেফতারকৃত রবিউল, মোতালেব ও বাদশাহ উপস্থিত ছিলো। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তীতে গত ১৩ জুলাই রবিউল ও বাদশাহ অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মনকে নির্মম ও পৈশাচিকভাবে হত্যা করে।

র‍্যাব সদর দপ্তরের মিডিয়া উইং এর প্রেস কনফারেন্স এর মাধ্যমে আরও জানা গেছে, খুনি মোতালেবকে রাজধানীর আশকোনা থেকে এবং খুনি বাদশাহকে রংপুরের গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট শাবল, দুই হত্যাকারীর গেঞ্জি ও জিনসের প্যান্ট আলামত হিসেবে উদ্ধার করেছে র‍্যাব।

এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল ঘটনা জেনে সাভারবাসী একজন নিরীহ ও দক্ষ শিক্ষকের এই নির্মম পরিণতিতে হতবাক হয়ে গেছেন। পাশাপাশি নিহতের পরিবারে মাতম চলছে।

মো. আল মামুন খান/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর