নিবন্ধন ৩ কোটির বেশি, টিকা আছে ৮১ লাখ ডোজ

দেশে করোনাভাইরাসের গণটিকা কার্যক্রম চলছে। দৈনিক ১২ থেকে ১৫ লাখ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা। টিকা নিতে ইতোমধ্যে নিবন্ধনকারীদের জন্য প্রয়োজন ৩ কোটির বেশি টিকা। কিন্তু সরকারি হিসেবে ৮১ লাখ ডোজ হাতে আছে। যার ফলে দেশে ২ কোটিরও বেশি টিকার ঘাটতি রয়েছে।

চলতি মাসের মধ্যেই যদি টিকার বড় কোনো চালান দেশে না আসে তাহলে সমস্যায় পড়ে যাবেন টিকা নিতে নিবন্ধনকারীরা। টিকার সংকট সামাল দিতে স্বাস্থ্য বিভাগও হিমশিম খেতে পারে।

এদিকে, টিকার ক্যাম্পেইনে ৬ দিনে ৩২ লাখ টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু গণটিকা দেয়ার প্রথম দিনই দেশে একদিনে সবমিলিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৩০ লাখের বেশি মানুষ টিকা নিয়েছেন। ক্যাম্পেইনের প্রথম দিনই লক্ষ্যের ৯২ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু পর থেকে ৭ই আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ ৭০ হাজার ২৮৪ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১ কোটি ৩০ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৯ জন। বাকি ৪৪ লাখ ৯৭ হাজার ৩১৫ জন নিয়েছেন দ্বিতীয় ডোজ।

প্রথম দিনের ৫টি জেলার হিসাব যোগ করলে এবং গতকালের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে আরও কমপক্ষে ৪ লাখ টিকা যোগ করে টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণকারীর সংখ্যা ৪৪ লাখ ৯৭ হাজার ৩১৫ জনকে বাদ দিলে ৯২ লাখের মতো মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে হবে।

আর টিকা নিতে ৮ই আগস্ট বেলা আড়াইটা পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৭ হাজার ৫২৪ জন। যদি প্রথম ডোজ গ্রহণকারীর সংখ্যা ১ কোটি ৩৬ লাখ বাদ দেয়া হয় তাহলে এক কোটির কিছু বেশি মানুষকে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে হবে। সেই হিসাবে ১ কোটি মানুষকে কমপক্ষে ২ কোটি ডোজ টিকা এবং ৯২ লাখের মতো মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে হবে। অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি টিকা লাগবে। কিন্তু টিকা হাতে মজুত আছে ৮১ লাখের মতো। সম্ভাব্য ঘাটতি টিকার পরিমাণ হবে ২ কোটির বেশি।

গণটিকা কর্মসূচিতে যেসব টিকা দেয়া হচ্ছে তা হলো- অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকা, চীনের তৈরি সিনোফার্ম, ফাইজার এবং মডার্নার ভ্যাকসিন। শনিবার দেশব্যাপী গণটিকা দেয়া শুরু হয়। আর তাতে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে ২৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৭২ জনকে। এর আগে নিয়মিত দৈনিক আড়াই লাখ থেকে ৩ লাখ পর্যন্ত প্রথম ডোজ টিকা দেয়ার রেকর্ড ছিল দেশে।

অধিদপ্তর আরও জানায়, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও সিলেট জেলার গণটিকাদানের নারী ও পুরুষের আলাদা হিসাব না আসায় তা মূল তথ্যে যোগ হয়নি শনিবার। পরবর্তীতে তা প্রতিবেদনে যোগ করে দেয়া হবে। এ ছাড়া শনিবার নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ৫৩ হাজার ৭৯৮ জন দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ শনিবার কেউ পায়নি এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২৭ হাজার ৭৯ জন। এখন পর্যন্ত অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৬৩ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪৩ লাখ ৭১ হাজার ৩১০ জন। এদিন ফাইজারের প্রথম ডোজও কাউকে দেয়া হয়নি এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪ হাজার ৬৭৪ জন। এখন পর্যন্ত দেয়া হয়েছে ১১ হাজার ৭১২ ডোজ। এ ছাড়া সিনোফার্মের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ৩৩ জনকে আর দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৯৩ জনকে। মডার্না প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬১৮ জন। এখন পর্যন্ত এই টিকার দ্বিতীয় ডোজ কেউ গ্রহণ করেনি।

এখন পর্যন্ত দেশে ক্রয় ও উপহার মিলিয়ে টিকা এসেছে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩ হাজার ৯২০ ডোজ। এগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৭০ হাজার ২৮৪ ডোজ। মজুদে রয়েছে ৮০ লাখ ৭৩ হাজার ৬৩৬ ডোজ টিকা।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর