নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের কাছিকাটা আত্রাই টোল প্লাজা এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে এক শিশুসহ ৭ জন।
তাদের মধ্যে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অজ্ঞান অবস্থায় চিকিৎসাধীন দুই বছরের ঐ কন্যা শিশুটির পরিচয় মিলেছে। হতভাগ্য শিশুটির নাম আকলিমা খাতুন, বয়স দুই বছর।
কিন্তু চরম বেদনার বিষয় হলো জীবনের শুরুতেই মাত্র দু বছর বয়সে রোববার (৮ আগস্ট) মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুটি একইসঙ্গে হারিয়েছে জীবনের পরম মমতার আশ্রয় প্রিয় বাবা ও মাকে।
শিশুটি দুর্ঘটনায় নিহত কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের আবু আফফান ও আরিফা খাতুন দম্পতির একমাত্র কন্যা সন্তান। বাবা-মাকে একসঙ্গে হারিয়ে চিরকালের মতো এতিম হয়ে গেল শিশুটি। তবে তার অবস্থাও আশঙ্কামুক্ত নয়।
রোববার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় তার চাচা ও চাচি এসে বড়াইগ্রাম হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেছেন। আহত অন্যরা গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীনে রয়েছেন।
দূর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন- কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের মৃত সমসের আলীর পুত্র আফ্ফান আহমেদ ও তার স্ত্রী আরিফা বেগম, ওই একই গ্রামের মৃত নাহারুল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম, মেহেরপুর জেলার গাংনি উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের মৃত জাহান নবীর ছেলে জসিম উদ্দিন এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সোয়াতৈল গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে মামুনুর রহমান মামুন। অপর এক নারীর নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক শামীম আহম্মেদ, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, ইউএনও মো. তমাল হোসেন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওই সময় নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহম্মেদ নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন।
রোববার (০৮ আগস্ট) দুপুরে হাটিকুমরুল মহাসড়কে উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের কাছিকাটা আত্রাই টোল প্লাজা এলাকায় ওই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকা অভিমুখে যাওয়ার পথে শ্রমজীবী লোকবোঝাই একটি দ্রুতগামী পিকআপ গাড়ি ওভারটেকিংয়ের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ১৫ ফুট নিচে পড়ে যায়। খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ, বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশ এবং নাটোর ও গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তাদের উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলেই দুই নারীসহ ৫ জন নিহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক নারী মারা গেছে।
এ বিষয়ে নাটোর ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড ডিফেন্সের উপ পরিচালক আসাদুজ্জামান জানান, ওভার টেকিংয়ের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। লাশ উদ্ধার করে বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের হস্তান্তর করা হয়েছে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, লাশ থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হলে স্বজনদের কাছে তা হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনার বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পিবিআইয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা তাদের মতো দুর্ঘটনার তদন্ত করবেন। তবে দ্রুতগতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।
সাকলাইন শুভ/বার্তা বাজার/এসবি