বালিশচাপায় সন্তানকে হত্যার দায়ে সৎ মা গ্রেফতার করেছে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পুলিশ। রোববার (৮ আগস্ট) সকালে সৎ মা নুপুর (২২) কে গ্রেফতরা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
জানা যায়, নুপুরের স্বামী ওমর ফারুক বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে বিকেলে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ।
এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের পদিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে হত্যার অভিযোগে সৎ মাকে আটক করে।
স্থানিয় সূত্রে জানা যায়, ওমর ফারুকের প্রথম সংসারের একমাত্র ছেলে আব্দুল্যাহ আল নাফিজ (৮)। প্রথম স্ত্রী সামছুন্নাহার কে ২০১৯ সালে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন দির্ঘদিনের প্রেমিকা নুপুরকে। মা হারা সন্তান নাফিজকে এতিমখানায় ভর্তি করিয়ে দেয় পিতা ওমর ফারুক। মাঝে মাঝে বাড়িতে এসে পিতার অনুপুস্থিতিতে নির্যাতনের শিকার হতো তার সৎ মা নুপুরের হাতে।
গতকাল (৭ আগস্ট) শনিবার নাফিজকে তার পিতার অনুপস্থিতে তার সৎ মা দিবাগত রাত ৯ টার দিকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে কাঁথা দিয়ে মরদেহ মুড়িয়ে খাটের ওপর শুইয়ে রাখে । পরে তার পিতা বাড়িতে এসে নাফিজকে চারদিকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সৎ মাকে অন্যের ঘর থেকে ডেকে আনে।
এক পর্যায়ে খাটের ওপর কাঁথা উঁচু করে মুড়ানো দেখে কাঁথা সরিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখতে পায়। এসময় তার নাকের পাশ দিয়ে রক্ত ও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সৎ মা নুপুরকে আটক করে।
সোনাইমুড়ী থানার ওসি তদন্ত জিসান আহাম্মেদ জানান, হত্যার অভিযোগে শিশুটির পিতা তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে আসামি করে থানায় মামলা করে। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
এম.এস আরমান/বার্তা বাজার/টি