পরীমনিদের নিয়ে কিছু সংবাদে নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে: মহিলা পরিষদ

সম্প্রতি নানা অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ বিনোদন জগতের নারী শিল্পীদের নিয়ে কোনো কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছে মহিলা পরিষদ। এ ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি পরীমনি ও পিয়াসাদের নিয়ে শিল্পী সমিতির ভূমিকার বিষয়েও তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

রোববার (০৮ জুলাই) মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেক বানু এ বিষয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা লক্ষ্য করছি যে, কোনো নারী ঘটনার শিকার বা অভিযুক্ত যাই হোক না কেন, এমনভাবে সংবাদ প্রচার ও শব্দ প্রয়োগ করা হয়, যাতে নারীর আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। এই ঘটনাসমূহ নারীর প্রতি পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ। যখন গণমাধ্যমকে জেন্ডার সংবেদনশীল করতে নারী আন্দোলন বিশেষ ভূমিকা রাখছে, গণমাধ্যমও নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সময়ে সহযোগী ভূমিকা রেখে চলেছে; সেইসময় দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোনো কোনো গণমাধ্যমের ভূমিকা নারীর মানবাধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে।

বিবৃতিতে নারী নেত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা লক্ষ্য করলাম এই ক্ষেত্রেও সংবাদ উপস্থাপন ও শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে পাঠক-দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে, যা সুস্থ সাংবাদিকতার পরিপন্থি।

ব্যক্তি নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, এমন কোনো ধরনের সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা পরিষদ নেতারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এক্ষেত্রে বিচারের আগেই দোষি করে দেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে, যা প্রত্যাশিত নয়। বিচারের আগেই এই ধরনের সংবাদ পরিবেশন নারীর ক্ষমতায়নে বাধা সৃষ্টি করবে।

নারীদের যারা অপরাধে ব্যবহার করছে, তাদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “অপরাধের মূল কারিগরদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় না আনায় নারী ও কন্যাদের ব্যবহার করা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এই প্রবণতা যে নিষ্ঠুর ও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে এই ঘটনাগুলো তারই প্রতিফলন। মহিলা পরিষদ মনে করে, এই সকল ঘটনার হোতাদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা না করলে এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাই কথিত মডেল পিয়াসা ও মৌকে গ্রেফতারের পর গ্রেফতার করা হয় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে। তারও আগে কথিত আইপি টিভির মালিক হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় মদ, মাদকদ্রব্য, জুয়া খেলার সামগ্রী। এসব ঘটনার পর গণমাধ্যমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ হতে শুরু করে।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর