পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন পালোয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের নারী নার্সদের লাঞ্ছিত করার। শনিবার (০৭ জুলাই) সকালে দশমিনা উপজেলা হাসপাতালের পুরাতন ভবনে এই ঘটনা ঘটে।
সঙ্গীদের নিয়ে দুই নার্সকে গালমন্দ ও ছাদ থেকে ফেলে দিতে চাওয়ার ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজের একটি স্থিরচিত্র ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। রোববার (০৮ জুলাই) ঘটনাটি জানাজানি হলে এ নিয়ে জন্ম হয় ব্যাপক সমালোচনার।
এ বিষয়ে দশমিনা হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ আক্তার জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাইন উদ্দিন হাওলাদার শুক্রবার রাতে ভর্তি হন। পরদিন সকালে নাসির উদ্দিন পালোয়ান তাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন। তিনি এসে হাসপাতালের নতুন ভবনে কোনো ডাক্তার পাননি।
পুরাতন ভবনে গিয়ে নার্সদের কাছে ডাক্তার না থাকার কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, রাত্রিকালীন ডিউটি শেষে ডাক্তাররা বাসায় গিয়েছেন, তাই এখন তারা অনুপস্থিত। একথা শুনে ক্ষিপ্ত হন নাসির পালোয়ান।
তিনি নার্স ইশরাত জাহান ও শাহনাজ আক্তারকে আদেশ করেন ডাক্তারদের ফোন দিতে। পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় শুরু করেন গালমন্দ। পরে তাদেরকে লাঞ্ছিত করে ছাদ থেকে ফেলে দিতে উদ্যত হন। এমনকি ডাক্তারদের নাম ধরেও তিনি গালাগালি করেন।
এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজের কিছু স্থিরচিত্র হাতে এসেছে গণমাধ্যমের। সেখানে দেখা যায় ভাইস চেয়ারম্যান লোকজন নিয়ে নার্সদের নির্দিষ্ট কক্ষে প্রবেশ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে।
তবে এ বিষয়ে মুখ খুলেননি পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর শিপন।
অভিযুক্ত ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন পালোয়ান জানান, এ রকম ঘটনা ঘটেনি। কাউকে গালমন্দ করা হয়নি। শুধু ডাক্তারের নম্বর চাওয়া হয়েছিল। বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।
দশমিনা থানার ওসি মোহাম্মদ জসিম জানান, এরকম কোনও অভিযোগ আমি পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বার্তা বাজার/এসজে