করোনার টিকা নিতে ভিড় থাকলেও কমছেনা ভোগান্তি

দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেকের। ছবি: সংগৃহীত

করোনা প্রতিরোধে দেশব্যাপী চলমান গণটিকা কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনেও কেন্দ্রগুলোতে ভিড় দেখা গেছে। টিকার সংখ্যা সীমিত থাকায় অনেকেই টিকা পাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। রোববার (৮ আগস্ট) মাতুয়াইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের টিকাকেন্দ্রে দেখা গেছে এই দৃশ্য।

সকাল ৯টায় টিকা কার্যক্রম শুরু হলেও টিকা নেওয়ার জন্য ভীড় দেখা গেছে সকাল ৭টা থেকেই। কয়েকশ নারী-পুরুষ সকালের বৃষ্টি মাথায় নিয়েই চলে আসেন টিকা নিতে।

টিকা নিতে সকাল ৮টার মধ্যে চলে এসেছেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডে (বিটিসিএল) চাকরিরত টিপু। তিনি বলেন, টিকা দেয়ার কার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে নিতে হয়। আমি গতকাল রাত ৯টায় কাউন্সিলের কাছ থেকে কার্ড নিয়েছি। আজ টিকা দিতে আসলাম।

কাউন্সিলর কার্যালয়ের একজনের সঙ্গে কিছুটা উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন বোরকাপরা দুই নারী। তারা দুই বোন শান্তা ও মারিয়া। তারা উত্তর রায়েরবাগ থেকে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে এসেছেন। শান্তা বলেন, আমরা তো আগে কার্ড নেয়নি। একজন বলল, কাউন্সিলর এসে কার্ড দেবে। আবার আরেকজন বলেছেন, আজ আর কার্ড দেয়া হবে না। আমার কার কথা শুনব, বুঝতে পারছি না। তারা ঠিক করে বলুক।

টিকা নিতে এসে শাহাদাত হোসেনও কিছুটা ক্ষুব্ধ, তিনি বলেন, খবরে কইতাছে, আইডি কার্ড নিয়া আইলেই টিকা নেওন যাইব। এখানে আবার উল্টা নিয়ম। আগে কার্ড নিতে অইব। আমার লগে তো খাতির নাই আমারে কি কার্ড দিব?

তিনি আরও বলেন, কী আর করমু চইলা যাই, সকালে আইসা বইসা রইছি হুদাই।

বৃদ্ধ করিমন বেওয়া এসেছেন মাদরাসা রোড থেকে। দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে তিনি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চলে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘বাবা আমি তো জানি না। খালি ভোটার কার্ড নিয়া আইছি। হ্যারা এখন কও আরও কার্ড লাগব। হেই কার্ড ছাড়া টিকা দিব না। টিকা না দিলে বইয়া থাইক্যা কি করমু।’

সকালন ৯টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এই কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম শুরু হতে পারেনি সাড়ে ৯টায়ও। পুরুষ-নারীর ছিল আলাদা লাইন, সেখানে নারীদের সংখ্যাই ছিল বেশী।

এই টিকাকেন্দ্রের সুপারভাইজার আল-আমিন আরিফ বলেন, ‘আমরা এখানে প্রতিদিন ২৫০টি টিকা দিয়ে থাকি। মোট ছয়দিন এই কার্যক্রম চলবে।’

তিনি বলেন, যারা কার্ড নিয়ে আসবেন তাদের মধ্য থেকে আড়াইশজনকে আমরা টিকা দেব। টিকা কার্ড আমরা কাউন্সিলরকে দিয়ে দিই, তিনিই সেগুলো বিতরণ করেন।

বার্তা বাজার/এম

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *