হিসাব যেন সব এলোমেলো বিএনপির

দলে ভারসাম্য রক্ষা হোক বা সর্বোপরি দুই নেতাকে খুশি করা; ঢাকা মহানগর বিএনপি কমিটির সব হিসেব যেন এলোমেলো। পরিবর্তন এসেছে বিএনপির হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তেও।

একাধিক সূত্র হতে জানা যায়, স্থায়ী কমিটির ২ প্রভাবশালী সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে খুশি করতে বিএনপির শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে এসেছে পরিবর্তন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণে আমানুল্লাহ আমানকে আহ্বায়ক করার কথা থাকলেও করা হয়েছে আবদুস সালামকে। আমানকে পাঠানো হয়েছে উত্তরে। একই কারণে প্রায় চূড়ান্ত থাকলেও শেষ মুহূর্তে বাদ পড়েছেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। দলের তরুণ দুই নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ও তাবিথ আউয়ালকে সদস্যসচিব করে দুই মহানগরে কমিটি ঘোষণার আলোচনাও এ কারণে বাদ দিতে হয়েছে বিএনপির হাইকমান্ডকে। দক্ষিণের আগের কমিটির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে রেখেছিল বিএনপির হাইকমান্ড। বলা হয়, তিনি দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।

সোমবার (২ আগস্ট) হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত না থাকলেও পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপারসন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানুল্লাহ আমান ও দলের ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হকের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিবারের সদস্য আবদুস সালাম ও যুবদল দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে দক্ষিণের কমিটি ঘোষিত হয়।

আবদুস সালাম বিদেশ চলে যাওয়ায় তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়া সম্ভব না হলেও রফিকুল ইসলাম জানান, উত্তর-দক্ষিণের নেতা বদলের খবর আমি জানি না। তবে ঘোষিত কমিটি সঠিক হয়েছে বলে আমি মনে করি।
এছাড়া আমানউল্লাহ আমান বলেন, আমি উত্তর-দক্ষিণ বুঝি না। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যেখানে দিয়েছেন, সেখানেই দায়িত্ব পালন করব।

বিএনপির একটি সূত্র হতে জানা যায়,আমানকে দক্ষিণের আহ্বায়ক করাই মূল সিদ্ধান্ত ছিল। মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের আপত্তি থাকায় পরবর্তীতে তিনি উত্তরে চলে যান। এমনিতেও ঢাকা মহানগরের অধিবাসী না হওয়ায় কমিটিতে আমানের অন্তর্ভুক্তি নিয়েই দলের নানা স্তরে প্রশ্ন আছে।

কেরাণীগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে আমান ও গয়েশ্বরের বিরোধ চলছে বহু বছর ধরে। অনেক মনে করেন মির্জা আব্বাসের রাজনীতিতে গয়েশ্বর চন্দ্র অনেকটাই তার সহযোগী ছিলেন। সেই কারণেই গয়েশ্বর চন্দ্রে বিপক্ষে যান নি আব্বাস।

সূত্র থেকে আরও জানা যায়, দলের নানা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে বার্তা পাঠান যে আমানকে সভাপতি করলে তাঁরা মেনে নিবেন না। এমনকি কেউ কেউ পদত্যাগেরও হুমকি দেন বলে দাবি করছেন অনেকে।ো

তবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ বিষয়ে জানান, আমাদের দুজনকে খুশি করার জন্য কমিটির নেতা বদল করা হয়েছে—এটা সঠিক না। কমিটি গঠনের দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন তাঁরা বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে কমিটি দিয়েছেন। এখানে আমাদের সন্তুষ্ট করার কোনো বিষয় নেই।

সূত্র মতে, দুই নেতার এই অনড় অবস্থানের পর তারেক রহমান বিষয়টি নিয়ে দলের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলেন। বিএনপির এই দুঃসময়ে ওই নেতারাও দলে বিরোধ তৈরির বিপক্ষে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত ‘রিভিউ’ করার পরামর্শ দেন তারেককে। ফলে আমানের বদলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামকে দক্ষিণের সভাপতি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

জানা যায়, দুটির যেকোনো একটিতে আহ্বায়ক পদে সালামের নাম আলোচনায় থাকলেও তাঁর বিষয়টি নানামুখী হিসাব-নিকাশের মধ্যে ছিল। একইভাবে দক্ষিণের সদস্যসচিব পদে অবিভক্ত ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইসরাক হোসেনের নামও ছিল। আর উত্তরে ছিল তাবিথ আউয়ালের নাম। তবে তরুণ ওই দুই নেতা মহানগরে শীর্ষ পদে যেতে এখনই খুব বেশি আগ্রহী ছিলেন—এমন নয়। এ কারণে তাঁদের ১ নম্বর সদস্য করা হয়েছে। নতুন কমিটিকে ইসরাক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বার্তা বাজার/এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর