নানা সমস্যায় নাজেহাল বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ভোলার বোরহানউদ্দিনের ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি সমস্যায়, সংকটে জর্জরিত। প্রায় ৩ লাখ লোকের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে নেই পর্যাপ্ত জনবল।
উপজেলায় প্রতিদিনই করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের হার বৃদ্ধি পেলেও এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি কোভিড বিশেষায়িত ইউনিট। আশঙ্কাজনক রোগীদের ভোলা সদর হাসপাতাল বা বরিশালে পাঠানো হয়। এত বিশাল জনসংখ্যার বিপরীতে মাত্র ১৩ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ আছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সংক্রমণের সময় ৪ জন এমবিবিএস ডাক্তার, ৭-৮ জন নার্স ও ৮-৯ জন স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসাবে তাদের অনুকূলে সরকারি ভাবে কোন প্রণোদনা আসেনি।
হাসপাতালে প্রায় ১০ বছর আগে পাওয়া এক্স-রে মেশিন রেডিওগ্রাফারের অভাবে সেবা দেওয়ার আগেই বিকল হয়ে পড়ে আছে। প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে একজন ল্যাব এসিষ্ট্যান্ট দিয়ে কোন রকমে করোনা শনাক্তের পাশাপাশি রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা চলছে।
হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা যায়, জনবল কাঠামো অনুযায়ী হাসপাতালে ২১ জন ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ৯ জন সহ মোট ৩০ জন এমবিবিএস ডাক্তার থাকার কথা।
ইউনিয়ন পর্যায় সহ হাসপাতালে বর্তমানে ১১ জন ডাক্তার কর্মরত আছেন। এর মধ্যে একজন ডাক্তারের বরগুনা জেলায় ডেপুটেশনের অর্ডার হয়েছে। অন্যান্য পদেও রয়েছে তীব্র জনবল সংকট।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন প্রাপ্তে ময়লার স্তুপ করে রাখা হয়েছে। বাতাসের ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এছাড়াও পুরুষ, মহিলা ও শিশু ইউনিটের বারান্দায় ময়লা ফেলার বক্সের উপর ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, স্যালাইন ফেলে রাখতে দেখা যায়। অন্যদিকে একই ব্যক্তিকে একই রুমে করোনার এন্টিজেন টেষ্টসহ অন্যান্য পরীক্ষাও করতে দেখা যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তপতী চৌধুরী জানান, ময়লা ও বর্জ্যরে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকৌশল শাখায় চিঠি দেয়া হয়েছে। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমিত জনবলে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তা বাজার/এসবি