আর কত বয়স হলে ছেকান্দারের ভাগ্যে মিলবে বয়স্ক ভাতা
মোঃ ছেকান্দার মুন্সী। জন্ম তারিখ ১৫ মে ১৯৫২। পেশায় একজন পত্রিকার হকার। সকাল হলেই ছোটাছুটি করেন পত্রিকা নিয়ে। করোনা সংকটের মুহূর্তে এ দিয়ে আর চলে না। বকশিসের নামে বাড়াতে হয় ভিক্ষার হাত। ক্ষুধা নিবৃত্তি করতে মাঝে মাঝে দোকান থেকে রুটি কলা চেয়ে খেতেও দেখা যায় তাকে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকলে অনাহারে অর্ধাহারে কাটাতে হয় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এ বৃদ্ধের।
ছেকান্দারের গ্রামের বাড়ি হোতখালী গ্রামে। গুলিশাখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ভোটার তিনি। ভোটার আইডি নং ৭৯১৫৮৫১৩৬৩৫৬৪। একমাত্র ছেলে মহিউদ্দিন (৩০) মানসিক প্রতিবন্ধি। একযুগ ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন এই ছেলেকে ঘরের ভিতর একটি কক্ষে আটকে রাখতে হচ্ছে। একমাত্র মেয়ে লিলি এখন স্বামী পরিত্যক্তা। লিলির রয়েছে কলেজ পড়ুয়া এক ছেলে। স্ত্রী, সন্তান ও নাতিকে নিয়ে মঠবাড়িয়া পৌর শহরে থাকেন তিনি। বাসা বলতে একটি দোতলা বিল্ডিংয়ের নিচ তলায় থাকেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে বাড়িভাড়া নেন না বাড়ির মালিক।
গ্রাহকের নিকট যথাসময় পত্রিকা পৌঁছে দিতে অভ্যস্ত সেকান্দার মুন্সী। যুগান্তর, সমকাল, আমার সংবাদ, ভোরের ডাক, যায়যায় দিন, আমাদের কন্ঠ, আমাদের সময়, আমাদের (নতুন) সময়, আজকের বার্তা, ভোরের আলো, দখিনের খবর,মঠবাড়িয়ার খবর,মঠবাড়িয়ার সংবাদ সহ বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা বিলি করেন তিনি।
ইউএনও অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, সমাজসেবা অফিস,ভূমি অফিস, সেটেলমেন্ট অফিস, মঠবাড়িয়া থানা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা সহ পাঠকদের নিকট পৌঁছে দেন তাদের প্রিয় পত্রিকা। সাংবাদিকদের দেখলেই বলেন তাকে নিয়ে একটি নিউজ করতে। তার বিশ্বাস নিউজ করলেই পাবেন বয়স্ক ভাতা।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনোকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায় নি। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল মিয়া বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ আসলে পরবর্তী বয়স্ক ভাতার তালিকায় সেকান্দার মুন্সীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করব। তার অসহায়ত্বের বিষয়টি অবগত আছি।
সমাজসেবা অফিসার তরিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুপারিশ করলে সেকান্দার নামের ওই ব্যক্তি বয়স্ক ভাতা পেতে পারেন। তাকে আমরা চিনি ও জানি। তিনি বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য।
শাহ জাহান/বার্তা বাজার/এসবি